আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদির মধ্যে সংঘাতের উত্তাপ দিনের পর দিন বাড়ছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হুথিরা একটি শক্তিশালী মিসাইল ও ড্রোনের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমুখী আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই চলছে প্রস্তুতি।
মাঝে চার বছরের যুদ্ধবিরতি। গত জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জবাবে হুথিরা ফের আক্রমণ শুরু করে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে আবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার বিমানবন্দরগুলিতে ক্রমাগত হামলা শুরু হয়। বিশেষত, রিয়াধের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০ বার আক্রমণ চালানো হয়। মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র শহরকে লক্ষ্য চালানো হয়েছিল হামলা। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এপ্রিল লংলে অ্যালির মতে, হুথিরা 'অবরোধের বদলে পাল্টা অবরোধ, বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দরে পাল্টা হামলা' নীতিতে এই হানা চালাচ্ছে।
খবরে প্রকাশ, হুথিদের কাছে বিভিন্ন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন রয়েছে। যা তারা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালীতেও ব্যবহার করছে। জেনস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সানা দখলের সময় উদ্ধার করা অস্ত্র, আরব সাগর দিয়ে চোরাচালান করা গোটা ব্যবস্থা এবং ইরান থেকে আনা বিভিন্ন যন্ত্রাদি জুড়ে তারা স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি করছে।
এর মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার 'খাইবার শেকান' মিসাইল, শর্ট-রেঞ্জের 'আসেফ' অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার 'কুদস-৪' ক্রুজ মিসাইল। 'ওয়াইদ-১' এবং 'ওয়াইদ-২' ড্রোন, যা মূলত ইরানের শাহেদ ড্রোনের স্থানীয় সংস্করণ।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিষ্ঠানের মতে, ইরান-ওমানের সীমান্ত বা ছোট নৌকার মাধ্যমে যন্ত্রাংশ পাচার করে হুথিদের সামরিক সাহায্য মিলছে। তবে ইজরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ জানিয়েছেন, হুথিরা নিজেদের ইরানের পরিবর্ত শক্তি হিসাবে নয়। বরং সহযোগী হিসাবে কাজ করে। ইরানি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হুথিরাই নেয়।
বছরের পর বছর ধরে সৌদি, মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলার পর এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী দীর্ঘ দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
