জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলে কটাক্ষ করেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তাকে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে আদালতে কথা বলতে হলে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশও দেন বিচারক।
গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এ ঘটনা ঘটে। এদিন দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীকে একটি বক্তব্য ভূতাপেক্ষ কিনা, জানতে চান। প্রথমে উত্তর দিতে না চাইলেও পরে সাক্ষী বলেন, বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ হবে। এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক বলেন, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসিনি।
জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষে আইনজীবী রয়েছেন। অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না। এ নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। কথা বলতে হলে অনুমতি নিতে হবে বলেও নির্দেশ দেন বিচারক
সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে মাহদী আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে পলকের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়।
সেখানে এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিন মাহদী আমিন আরও বলেন, সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি নিজে জানেন না; ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পারেন। পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং পলাতক জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মনজুর আলম ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
