লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সেই ৭ পুলিশ সদস্যের নামে করা মামলা এবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দিলে আদালত এ আদেশ দেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, রায়পুরে আটকের পর আবদুর রহিম রনি নামে এক আসামিকে মারধরের ঘটনায় তার স্ত্রী রিনা আক্তার বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর আদালতে ৭ পুলিশের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ, নুরুল ইসলাম, মো. আবু হানিফ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন, কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালিকে অভিযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী রনি রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের পূর্ব চরপাড়া গ্রামের মো. শহিদুল্লাহর ছেলে।
আদালত ও বাদীর আইনজীবী কাছ থেকে জানা যায়, আদালত প্রথমে মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিলে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বাদী নারাজি দেন। এতে পরবর্তীতে আদালতে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়কে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়। পিবিআইও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে বাদী ফের নারাজি দেয়। এতে একই বছর ৯ জুলাই আদালত জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেন। চলতি বছরের গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে গত ১৭ আগস্ট বাদী সিআইডির দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন আদালতে। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে নারাজি মঞ্জুর করেছেন। এবার মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাদীর আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে প্রভাবিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ না করা এবং ফরেনসিকে না দেওয়ায় তদন্তে গাফিলতি ছিল। বাদীর সাক্ষীদের জবানবন্দি আমলে না নিয়ে নিজেদের মনমতো জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বাদী সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন। আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এজাহার সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার রায়পুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে অভিযুক্তরা রনিকে আটক করে। তখন তার সঙ্গে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা অভিযুক্তরা নিয়ে গেছেন। পরে তাকে নিয়ে এসে মারধর করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দিয়েছেন। পরে সেখানে পানি খেতে চাইলে টিউবওয়েলের সঙ্গে তার মাথায় আঘাত করেন। আটকের খবর পেয়ে রনির স্ত্রী রায়পুর থানায় বারবার গেলেও স্বামীর সন্ধান পাননি। পরে তিনি সদর থানা, গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় ও জেলা কারাগারেও খোঁজ নিয়ে স্বামীর সন্ধান পাননি।
ফের রায়পুর থানায় গেলে সেখানে রনির মোটরসাইকেল দেখতে পান তিনি। এতে স্বামীর সন্ধান চাইলে বিভিন্ন কথা শুনতে হয় তাকে। পরে তিনি এসআই হানিফকে কল দিয়ে স্বামীর সন্ধান চান। হানিফ তার স্বামীকে ছাড়তে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এতো টাকা নেই জানালে রনিকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
তখন থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রনিসহ দুইজনকে একনলা বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, ১৮০ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও মাদক আইনে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
