আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্প তালুকে। শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি চিমনি আচমকা ধসে পড়ে। এই ঘটনায় শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও এক শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় এক শ্রমিককে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় নির্মীয়মাণ চিমনির কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই চিমনির দেওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান কর্মরত শ্রমিকরা। প্রাথমিক অনুমান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে মোট চারজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য জোরকদমে কাজ শুরু হয়। দুই শ্রমিককে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও, মৃত্যুর বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে বিধায়ক, মোতায়েন কমব্যাট ফোর্স
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জামুড়িয়া বিধানসভার বিধায়ক বিজন মুখার্জি। তিনি উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং আহত শ্রমিকের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। উপস্থিত রয়েছেন পুলিশ কমিশনার-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
উৎসবের সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালীন কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, শিল্পক্ষেত্রে নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।
