পাকা রাস্তা নেই! তাই, শ্বশুরবাড়ি পৌঁছোনোর জন্য বিয়ের পোশাকেই দুর্গম পথ পেরিয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে তাঁকে। এতে চরম হতাশ হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামীর কাছে রাস্তা তৈরির আর্জি জানালেন নববধূ। ঘটনাটি উত্তরাখণ্ডের চক্রাতার। শ্বশুরবাড়িতে আসার পরই সংশ্লিষ্ট গ্রামে যাতায়াতের জন্য একটি পাকা রাস্তা তৈরির জোরালো দাবি তুলেছেন ওই নববধূ। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
জানা গিয়েছে, ওই নববধূর নাম শর্মিলা। বিয়ের শোভাযাত্রার সঙ্গে বুলহার গ্রাম থেকে উন্দাভা যাচ্ছিলেন তিনি। দেহরাদূনের কাছে অবস্থিত ওই প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছোনোর কোনও পাকা রাস্তা না থাকায়, তাঁকে শেষ ১৮ কিলোমিটার হেঁটেই পাড়ি দিতে হয়। গত মঙ্গলবার লোকখান্ডি থেকে তাঁর এই হাঁটা শুরু হয়। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিয়ের ভারী লেহেঙ্গা পরে তাঁকে অসমতল পথে দ্রুত পায়ে হাঁটতে হয়। উদ্দেশ্য ছিল, শুভ মুহূর্তের আগেই নতুন বাড়িতে পৌঁছোনো।
গ্রামবাসীদের ক্যামেরাবন্দি করা একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ক্লান্ত কনে সরাসরি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ধামীর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন! তিনি জানান, তাঁকে লোকখান্ডি থেকে উন্দাভা পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি রাস্তা নির্মাণের অনুরোধ জানান, যাতে ভবিষ্যতে গ্রামবাসীকে আর এমন কষ্টের সম্মুখীন হতে না হয়।
‘রাকেশ উত্তরাখণ্ডী’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রত্যন্ত ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে সবার নজরে এসেছে। স্বাধীনতার পর এত দশক পেরিয়ে গেলেও উন্দাভায় এখনও কোনও পাকা রাস্তা নেই, যা দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার অভাব জরুরি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, রোগী এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছোনো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সমস্যাটি নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উন্দাভা এবং হান্দি কান্দির মতো প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে পাকা রাস্তার অভাব এবং সেখানকার বাসিন্দাদের নানাবিধ সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার সময় এই সব গ্রামের মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছোতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
