Published on
:
2 min read
এই সময়: পরিবহণ ও পরিষেবা খাতে খরচ বৃদ্ধি, তার সঙ্গেই ‘দোসর’ খাদ্যপণ্যের আগুন দাম—জোড়া ফলায় গত সেপ্টেম্বরে চড়ল খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার। সোমবার ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স অফিস তথা এনএসও-র প্রকাশিত রিপোর্টে এমনই তথ্য সামনে এলো। ওই রিপোর্টে দাবি, গত সেপ্টেম্বরে দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৫.৫৪ শতাংশে। যা পুরোনো সিরিজ় (২০১২ ভিত্তিবর্ষ)-এর নিরিখে গত ২৩ মাসের সর্বকালীন উচ্চতা ছঁুয়েছে। পাশাপাশি, নতুন সিরিজ় (২০২৪ ভিত্তিবর্ষ) অনুযায়ী হিসেব করলে দেশের মূল্যবৃদ্ধির হার গত সেপ্টেম্বরে ২১ মাসের শিখরে পৌঁছেছে। তবে দেশে পণ্যের খুচরো দরে মূল্যবৃদ্ধির হার চড়চড় করে বাড়লেও তা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর স্বস্তিসীমা ৬ শতাংশের নীচে রয়েছে। কিন্তু, পণ্যের খুচরো দরে বর্ধিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে যে যথেষ্ট ছেঁকা দিচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলতি মাসেই ঋণনীতি ঘোষণার সময়ে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে আরবিআই। খুচরো মূল্যবৃদ্ধির ওঠাপড়ার উপরে ভিত্তি করে সুদের হার বাড়ানো–কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। ঋণনীতি ঘোষণার সময়েও আগামী দিনের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। এ দিনের পরিসংখ্যান তাঁর সেই আশঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করল। আর তার সঙ্গে আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়ার পথ প্রশস্ত হলো বলা চলে। সে ক্ষেত্রে ঋণে মাসিক কিস্তির বোঝা আরও চেপে বসার সম্ভাবনাও যথেষ্ট।
গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের অগস্টে দেশে কনজ়িউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্স তথা খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৯৭ শতাংশ। যা এক মাসের মধ্যেই চড়েছে ১.৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরে খাবারের মূল্যবৃদ্ধির হার ছঁুয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। এর আগে ২০২৪-এর ডিসেম্বরে এই হার ছুঁয়েছিল ৮.৩৯ শতাংশ। যদিও সেই হার পুরোনো সিরিজ়ের ভিত্তিতে হিসেব করা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, গত মাসে খাদ্যপণ্যের মধ্যে সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। অগস্টে এই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪৮.৭৮ শতাংশ। যা সেপ্টেম্বরে পৌঁছেছে দ্বিগুণেরও বেশি ১০৮.০৯ শতাংশে। এ ছাড়াও রসুন এবং লেবুর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৫৪.৬২ শতাংশ এবং ৩৬.৪১ শতাংশ। তবে আদার ক্ষেত্রে এই হার সামান্য কমে হয়েছে ৬২.৮৫ শতাংশ। যদিও সেপ্টেম্বরে টমেটো এবং আলুর মূল্যবৃদ্ধির হার কমে হয়েছে যথাক্রমে ৮.৬২ শতাংশ এবং ১১.৫০ শতাংশ।
ওই রিপোর্টে দাবি, পণ্যের বাজারের মধ্যে রুপোর গয়নার মূল্যবৃদ্ধির হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮৭.৮০ শতাংশ। যা অগস্টের তুলনায় নামলেও ‘পার্সোনাল কেয়ার, সোশ্যাল প্রোটেকশন অ্যান্ড মিশলেনিয়াস গুডস’-এর ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার রেখেছিল ১৩.৭৫ শতাংশে। এ ছাড়াও গত মাসে পরিষেবা ও পরিবহণ ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৯.৩৬ শতাংশ এবং ৫.০১ শতাংশ। যা দেশের মূল্যবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
এনএসও-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেশজুড়েই অর্থনীতিবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাঁদের বড় অংশ জানিয়েছেন, দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতির উপরে। অর্থাৎ, দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার রুখতে আরবিআই-এর মানিটারি পলিসি কমিটি কর্তৃপক্ষ আগামী দিনে ফের রেপো রেট (যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে সুদ দেয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক) বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলি থেকে নেওয়া ঋণের উপরে সুদের হার বাড়বে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই আরবিআই কর্তৃপক্ষ রেপো রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়লে ডিসেম্বরে মুদ্রানীতির বৈঠকে ‘কড়া’ পদক্ষেপ করতে পারেন আরবিআই কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ব্রিকওয়ার্ক রেটিংস-এর রাজীব শরণ জানিয়েছেন, অক্টোবরেই ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়িয়েছে আরবিআই। তাদের অনুমান, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত হেডলাইন ইনফ্লেশন ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতি থাকলে আগামী দিনে কয়েক দফায় রেপো রেট বৃদ্ধি করতে পারে আরবিআই।