আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন দেশটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাই, বেতন ও বৃত্তির তীব্র সংকট এবং গবেষণার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমে এসেছেন। রাজধানী বুয়েনস এইরেসে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ভবন এক দিনের জন্য নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ব্যানার টানিয়ে তারা স্লোগান দেন, ‘এভাবে আর চলতে পারে না’। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, সরকারি বাজেট কাটের কারণে ফ্রিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। উপযুক্ত বেতন না পেয়ে অনেক শিক্ষকই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইলেই সরকারি খাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, একাধিক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত এবং সার্বিক ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নেন। এতে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ২ শতাংশে নামলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাইলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দাবি করলেও বিরোধীদের অভিযোগ—সাধারণ জনগণের ওপর অস্বাভাবিক খরচের বোঝা চাপিয়েই এই হিসাব দেখানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন বজায় রাখতে কংগ্রেসে একটি বিল পাস হলেও প্রেসিডেনশিয়াল ভেটো এবং সরকারের অর্থ ছাড় না করার অজুহাতে তা থমকে আছে। এ নিয়ে দেশটির এক ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন ১ লাখ পেসো জরিমানা পর্যন্ত করেছেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে শিক্ষা খাতে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া তেরেসা দে হেসুস জানান, মাসে প্রায় ৭০০ ডলার আয় করেও তার পক্ষে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আমি একজন অধ্যাপক। শিক্ষকতা ও গবেষণা করতে ভালোবাসি। আমার এখানে থাকার কথা নয়।’
অন্যদিকে, অনেকেই সরকারের পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মাইলেই সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে, আর তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। সূত্র: আলজাজিরা
