ইস্টবেঙ্গল-৪ চার্চিল ব্রাদার্স-০
(দানি, এডমুন্ড, বিপিন-২)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইস্টবেঙ্গল গত বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। এবারের আইএসএলের শুরুটাও করল দারুণভাবে। একেবারে রাজার মতোই! চার্চিল ব্রাদার্সকে তাদের ঘরের মাঠে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নতুন মরশুমে নিজেদের শক্তি ও দাপট বুঝিয়ে দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
দানি রামিরেজের দুরন্ত ফ্রি-কিক, এডমুন্ড লালরিন্দিকার নিখুঁত ফিনিশিং এবং পরিবর্ত হিসেবে নামা বিপিনের জোড়া গোলে ফতোরদা স্টেডিয়ামে রীতিমতো উৎসবের আবহ তৈরি হল। শুরুতেই বড় জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের মতোই অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল।
রবিবার গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেদের। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র দু’মিনিট। বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল আদায় করে নেন দানি রামিরেজ। ফ্রি-কিক থেকে তাঁর বাঁকানো শট সোজা আশ্রয় নেয় চার্চিলের জালে। দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয় লাল-হলুদ।
গোল খেয়ে অবশ্য হাল ছাড়েনি চার্চিল ব্রাদার্স। ধীরে ধীরে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। ১৭ মিনিটে ওকোলির প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয় গোয়ার দলটির। গুতিয়েরেজ ও ওয়েড লেকের কয়েকটি আক্রমণও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলে। কিন্তু গোলের সামনে ফিনিশিংয়ের অভাব ভোগায় চার্চিলকে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়ে বিপদ সামাল দেয় ইস্টবেঙ্গল।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়ে স্বস্তি ফেরায় লাল-হলুদ। ৪৫ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ডেভিড হামারের বাড়ানো বল বক্সের মধ্যে পেয়ে যান এডমুন্ড লালরিন্দিকা। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। আইএসএলের এই মরসুমে নিজের প্রথম গোল করে ইস্টবেঙ্গলের লিড দ্বিগুণ করেন এডমুন্ড। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। এডমুন্ড আবার গোলে ফিরলেন, এটা স্বস্তি দিল স্প্যানিশ কোচকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে আক্রমণের গতি বাড়ায় চার্চিল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙা সহজ ছিল না। অন্যদিকে, প্রতি-আক্রমণে বারবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে লাল-হলুদ। ৪৮ মিনিটে দানি রামিরেজের শট আটকে দেন চার্চিল গোলরক্ষক। ৫৫ মিনিটে দূর থেকে এডমুন্ডের শটও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনায় এগিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে জমাট রক্ষণ তৈরি করে চার্চিলের আক্রমণ আটকে দেয় তারা। ৬৫ মিনিটে কিংসলি ফার্নান্ডেজের বাড়ানো বল থেকে ওয়েড লেকের সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তিনি। ৭১ মিনিটে এডমুন্ডের পাস থেকে বিষ্ণুর সহজ সুযোগ নষ্ট করাও চার্চিলের স্বস্তি বাড়িয়েছিল। এত সহজ সুযোগ আর পাবেন না বিষ্ণু।
কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝড় তখনও থামেনি। ৮৫ মিনিটে বিপিনের দুর্দান্ত কার্লার শটে ব্যবধান ৩-০ হয়। অসাধারণ দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নিশ্চিত করে দেন তিনি। আর সেখানেই শেষ নয়! এর পরেও ছিল বিপিন ম্যাজিক। এবার বিষ্ণুর পাস থেকে বিপিন তাঁর দ্বিতীয় গোল করেন। ইস্টবেঙ্গল ৪-০-এর লিড নিয়ে নেয়। একের পর এক আক্রমণ, নিখুঁত ফিনিশিং এবং প্রতিপক্ষের উপর চাপ বজায় রেখে বড় জয় নিশ্চিত করে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার গল্প নয়, বরং নতুন মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক শক্তিরও পরিচয়। দানি রামিরেজের দুরন্ত ফ্রি-কিক, এডমুন্ডের গোল এবং বিপিনের জোড়া গোল, সব মিলিয়ে সমর্থকদের জন্য আইএসএলের শুরুতেই দারুণ উপহার।
