সমাজে সবার সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিসহ যাদের বিশেষ মনোযোগ ও সাহায্য প্রয়োজন, তাদের পাশে রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় সভায় ৩০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি সরাসরি তাদের নানা সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু দাবি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান। বিশেষ করে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও বিচারালয়ে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের জোর দাবি তোলা হলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
কৃষি খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা শিথিল করা এবং ঢাকা সহ বড় শহরগুলোতে সহজে চলাচলের উপযোগী গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের প্রস্তাব উঠলে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি দাবি আসায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের উপযোগী কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠান চলাকালে মো. মহসিন নামের একজন প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহারস্বরূপ একটি টুপি নিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মঞ্চ থেকে নিচে নেমে তা গ্রহণ করেন এবং বিদেশে তাদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে সবার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ ছবিতে অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
জেএইচআর
