কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় বাড়েনি বিতরণ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বিতরণ হয়েছিল। গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। এর বিপরীতে প্রথম দুই মাসে বিতরণ হয় ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। অবশ্য গত অর্থবছর শেষে মোট বিতরণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রথম দুই মাসে এসব ব্যাংক বিতরণ করেছে মাত্র ২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে এসব ব্যাংক দিয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, জিডিপিতে কৃষির অবদান বাড়াতে এই খাতের অর্থায়ন বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য চলতি অর্থবছর থেকে একটি ব্যাংকের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত মোট ঋণের আড়াই শতাংশ এই খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক ছিল।
জিডিপিতে ধারাবাহিকভাবে কৃষির অবদান কমে গত অর্থবছরে চলতি মূল্যে ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং স্থির মূল্যে ১০ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ঠিক ২০ বছর আগে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যথাক্রমে যা ২১ দশমিক ৮৪ এবং ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৫৯ শতাংশের বেশি। অবশ্য তখন সেবা ও শিল্প খাতের অগ্রগতি সেভাবে শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে নানা উদ্যোগের মধ্যেও ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ রয়েছে। এর অন্যতম কারণ কৃষির তুলনায় শিল্পসহ অন্যান্য খাতে কম পরিচালন ব্যয়ে বেশি মুনাফা করতে পারে তারা। তবে সার্বিক অর্থনীতির স্বার্থে গত কয়েক বছর ধরে ঋণের একটি অংশ কৃষিতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতির মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কৃষি খাতে আছে। চলতি অর্থবছর থেকে মোট ঋণের ৪ শতাংশ বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জিডিপিতে কৃষির অবদানের সমান তথা ১০ শতাংশের বেশি বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি কমাতে এই খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করা একটি লক্ষ্য। যথাযথভাবে ঋণ নিশ্চিতে তদারক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি বিশেষ ‘ওয়েব বেজড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে এই সফটওয়্যারে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে খাতভিত্তিক ঋণের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পরে জেলা থেকেও খাতভিত্তিক কৃষি তথ্য নেওয়া হবে। এখানে কোনো অসংগতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।