আজকাল ওয়েবডেস্ক: জর্ডনে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় অন্ততপক্ষে অন্তত ছ'জন নিহত। আহতের সংখ্যা ২৮। সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে খ্রিস্টানদের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল বলেই জানা গিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, শুক্রবার দেশের কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীণ এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে একটি গাড়িতে করে এসে গির্জার সামনে নামে। এরপর গির্জার কাছে মানুষের জমায়েতের উপর অতর্কিত গুলি চালাতে থাকে। কর্তৃপক্ষ তরফে প্রথমে সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ছ'জন বলে জানানো হয়। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ও গ্রেপ্তারের জন্য শুরু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান।
জর্ডনের সংবাদমাধ্যম 'আল-মামলাকা' সম্প্রচারিত ফুটেজে সাধারণ পোশাকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তাঁদের দুজনের হাতে পিস্তল এবং অন্য একজনের হাতে একটি বড় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গির্জার প্রবেশপথের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাই গির্জা চত্বরের ভিতরের দিকে এগিয়ে যায়। সরকারি যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আল-মুমানি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত শুরু করছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে টানা গুলি চালায়। তারপরেই পালিয়ে যায় এলাকা থেকে। প্রত্যক্ষদর্শীর অনুমান, হামলার সময় গির্জার ভিতরে বা আশেপাশে ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জর্ডনের সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগেরই বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
জর্ডানে খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ে এই ধরণের ঘটনা অস্বাভাবিক। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশ খ্রিস্টান এবং কারাক অঞ্চলে তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে।
নৃশংস ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। একে 'জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা' আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, "সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম বা দেশ হয়না। এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হল, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি নষ্ট করে মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা।"
জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই হামলা চালিয়েছে উগপন্থীরা। কারাক অঞ্চলে এর আগেও প্রাণঘাতী জঙ্গি হানার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে গভর্নরেটেই একটি নিরাপত্তা কেন্দ্র ও পুলিশের টহল দলের উপর হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও একজন মহিলা পর্যটক ছিলেন। ওই হামলায় জড়িত চার জঙ্গি পরবর্তীতে ফের কারাকের ঐতিহাসিক দুর্গের ভিতরে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়।
