জালালাবাদ রিপোর্ট: দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ডিজিটাল সেবায় যুক্ত হচ্ছেন আরও বেশি মানুষ। তবে সংযোগের বিস্তারের সঙ্গে সবার নিজস্ব ডিভাইসের মালিকানা বা পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ছে না সমানতালে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশের। অন্যদিকে, ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও এক বছরে পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের হার কমেছে।
বিবিএসের ‘আইসিটি ব্যবহার ও প্রয়োগ জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
বিবিএসের তথ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যানেও ডিজিটাল সংযোগের বিস্তার দেখা গেছে। বিটিআরসির হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টÑ এই সাত মাসে দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে ৫২ লাখ ৯০ হাজার। জানুয়ারিতে গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ, আগস্টে তা বেড়ে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার হয়েছে।
মোবাইলনির্ভর ডিজিটাল জীবন : দেশের ৯৯ শতাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। এক বছর আগে এ হার ছিল ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোনের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক জানুয়ারির ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার থেকে বেড়ে আগস্টে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার হয়েছে। এ সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতাভুক্ত জনসংখ্যার হার ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকও বেড়েছে। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি; আগস্টে তা বেড়ে ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও পিএসটিএন সংযোগের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১ কোটি ৫৪ লাখ হয়েছে।
মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও স্পষ্ট। জানুয়ারিতে ফোরজি গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার, আগস্টে তা বেড়ে ১২ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার হয়েছে। বিপরীতে, থ্রিজি গ্রাহক ২ কোটি ১২ লাখ থেকে কমে ১ কোটি ৫ লাখে নেমেছে। থ্রিজি ও ফোরজি ব্যবহারকারীদের হিসাবে মোবাইল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে।
নিজস্ব ডিভাইস ও সংযোগে ঘাটতি : সংযোগের বিস্তার সত্ত্বেও নিজস্ব ডিভাইসের মালিকানা এবং বাস্তব ব্যবহারের সুযোগে ব্যবধান রয়ে গেছে। বিবিএসের হিসাবে, ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশের। এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, মোবাইল ব্যবহারকারীদের একটি অংশ অন্যের ফোন ব্যবহার করেন।
কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সীমিত। ব্যক্তিপর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারের হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু কম্পিউটার রয়েছে এমন পরিবারের হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের হার ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে ল্যান্ডফোনের ব্যবহারও কমেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারের ল্যান্ডফোন ছিল; এক বছর আগে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ : বিবিএস ‘ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে জেলাভিত্তিক আইসিটি সুবিধা ও ব্যবহার পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করছে। কম্পিউটার সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
