বিয়ের পর অনেকেরই ওজন বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে শারীরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক নানা পরিবর্তনের কারণে এ প্রবণতা দেখা যায়। বিয়ের আগে অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারদাবারে সতর্ক থাকেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কিন্তু বিয়ের পর নতুন সংসার, বাড়তি দায়িত্ব ও ব্যস্ততায় সেই অভ্যাসে ছেদ পড়তে পারে। ফলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। বিয়ের পর ওজন বাড়ার এই প্রবণতাকে ইংরেজিতে ‘লাভ ওয়েট’ বলা হয়।
‘অনলি মাই হেলথ’-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিয়ের পর নারী-পুরুষ উভয়েরই ওজন বাড়তে পারে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে শারীরিক ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়তে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিয়ের পর ওজন বাড়ার কয়েকটি কারণ।
১. খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়া
ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি অনেকের খাবার উপভোগের প্রবণতা বাড়াতে পারে। মিষ্টি, কেক ও পনিরজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়লে এবং ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে গেলে ওজনও বাড়তে পারে।
২. দাওয়াত ও নানা আয়োজন
বিয়ের পর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত ও নানা অনুষ্ঠান চলতে থাকে। এসব আয়োজনে নিয়মিত মিষ্টি, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও বেশি ক্যালরির খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বাড়তে পারে।
৩. শরীরচর্চায় অনিয়ম
বিয়ের আগে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন। বিয়ের পর সংসার ও কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততায় শরীরচর্চার সময় কমে যায়। এতে দৈনিক ক্যালরি খরচ কমে গিয়ে ওজন বাড়তে পারে।
৪. মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সংসারের দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্রের চাপ মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অনিয়মিত ঘুমও ক্ষুধা ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
বিয়ের পর খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময় বদলে যেতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. মাতৃত্ব ও শারীরিক পরিবর্তন
গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের পর শরীরে ওজনের পরিবর্তন হতে পারে। এ সময় হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি ও দৈনন্দিন রুটিনের বদলও প্রভাব ফেলে।
৭. শারীরিক সম্পর্ক কি দায়ী?
নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের কারণে সরাসরি ওজন বাড়ে—এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম ও জীবনযাপনের পরিবর্তন ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে করণীয়
পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিয়ের পরও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হঠাৎ বা অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।