Published on
:
5 min read
কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়
হেথায় আর্য, হেথা অনার্য/ হেথায় দ্রাবিড়, চীন—/ শক-হুন-দল পাঠান মোগল/ এক দেহে হল লীন।’
গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের এই লাইনগুলো লেখার সময়ে কি তাঁর একবারও বাঙালি জাতির বিচিত্র নৃতাত্ত্বিক ইতিহাসের কথা মনে পড়েনি? ১৯১০-এ যখন এই কবিতা লেখা হয়েছিল, তখনও বিজ্ঞানের দুনিয়া ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ এবং ‘ডিএনএ’ নামের কোনও বস্তুর নাম শোনেনি। কিন্তু বাংলার কবি হয়তো তাঁর অসামান্য প্রজ্ঞায় এমন কিছু বুঝেছিলেন, যা ২০২৬-এর নৃবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক থাকবে।
বাঙালির পরিচয় শুধু ভাষায়, সংস্কৃতিতে, ধর্মে কিংবা ভূগোলের মানচিত্রে নয়। আধুনিক জিনবিজ্ঞান বলছে, সেই পরিচয় আরও গভীরে। ভারতীয়দের শরীরের প্রতিটি কোষে লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বছরের অভিবাসন, কৃষির বিস্তার, ভিনদেশি মানুষের আগমন এবং পরস্পরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কাহিনি। সেই কাহিনির প্রধান কুশীলব দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠী, ইরান মালভূমির কৃষিজীবী সম্প্রদায় এবং মধ্য এশিয়ার তৃণভূমি থেকে আসা পশুপালকের দল। আর বাঙালিদের ক্ষেত্রে এই তিনের পাশাপাশি রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র— পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর জিনগত চিহ্ন।
এই চতুর্থ ধারাটিই বাঙালি জনগোষ্ঠীর ইতিহাসকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। গবেষকদের বিশ্লেষণে, পূর্ব এশীয় বংশধারার প্রভাব বাংলার মানুষের মধ্যে বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। বাংলার পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্তে এই প্রভাব সাধারণত বাড়তে দেখা যায়। আর পূর্ববঙ্গের জনগোষ্ঠীতে এই সংমিশ্রণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সূত্রপাত আনুমানিক দেড় হাজার বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টীয় পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের আশপাশে বলে অনুমান জিন-বিজ্ঞানীদের। অর্থাৎ শশাঙ্কর গৌড়ের সিংহাসনে বসারও আগে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন জনপদ, কৃষি ও বাণিজ্যের নিজস্ব জগৎ তৈরি হচ্ছিল, তেমনই ওই সময়েই মানুষের শরীরে ঘটছিল দীর্ঘস্থায়ী এক পরিবর্তনও।
তবে এই কাহিনি নিছক চারটি আলাদা জনগোষ্ঠীর সরল সমীকরণ নয়। মানবজাতির বংশপরিচয় ঠিকুজির মতো কোনও বন্ধ বাক্সে বন্দি অবস্থায় স্থির থাকে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অভিবাসন, বিবাহ, সামাজিক রীতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে তৈরি হয় মানুষের জটিল জিনগত পরিচয়। বাঙালির ইতিহাসও তেমনই বহু ধারার মিলনকাহিনি। আর সেই কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, আজকের রাজনৈতিক সীমান্ত কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানুষের প্রাচীন আত্মীয়তার শিকড় অনেক অনেক বেশি বিস্তৃত।
দুই জাতির তত্ত্ব ভেঙে দিলো ডিএনএ
একটা সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ইতিহাসকে খুব সরল ভাবে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। উত্তর থেকে ফর্সা চেহারার মানুষ এসেছিল, দক্ষিণে রয়ে গিয়েছিল অপেক্ষাকৃত গাঢ় বর্ণের জনগোষ্ঠী— এমন ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছিল আলাদা আলাদা জাতিসত্তার ছবি। কিন্তু জিনগত গবেষণায় সেই পরিচ্ছন্ন বিভাজন আর টেকে না। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে রয়েছে বহু প্রাচীন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ সংমিশ্রণের ছাপ। চেহারা, ভাষা কিংবা বর্তমানের সামাজিক পরিচয় দিয়ে সেই ইতিহাসকে পুরোপুরি বোঝা যায় না।
জিনগত গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ হিসেবে তিনটি বড় উৎসের কথা বলা হয়। প্রথমটি এই উপমহাদেশের প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহক জনগোষ্ঠী। দ্বিতীয় ধারাটি ইরানের প্রাচীন কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। তৃতীয় ধারাটি মধ্য এশিয়ার তৃণভূমিতে বসবাসকারী পশুপালক জনগোষ্ঠী। কয়েক হাজার বছর আগে তাঁদেরই কিছু দল দক্ষিণ এশিয়ায় আসে এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে যায়।
এই তিনটি উৎসও একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। এগুলি কোনও বিশুদ্ধ বা অপরিবর্তিত ‘জাতি’র নাম নয়। বরং প্রাচীন মানুষের জিনগত সম্পর্ক বোঝানোর জন্য গবেষকদের ব্যবহৃত ধারণা। বিভিন্ন অঞ্চলে এই বংশধারার অনুপাত আলাদা। উত্তর-পশ্চিমের কিছু জনগোষ্ঠীতে তৃণভূমির পশুপালকদের সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান তুলনায় বেশি দেখা যায়। অন্য দিকে, দক্ষিণের বহু জনগোষ্ঠীতে প্রাচীন দক্ষিণ এশীয় উৎসের অবদান বেশি। কিন্তু এই পার্থক্য দিয়ে মানুষকে পৃথক, বিশুদ্ধ জাতিতে ভাগ করা যায় না। বরং তা দেখায়, একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের ইতিহাস কতটা জটিল।
বাংলায় মিলল চতুর্থ এক সূত্র
বাংলার জিনগত পরিচয় বুঝতে গেলে এই তিন ধারার পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বংশধারাকেও বিবেচনায় আনতে হয়। গবেষণায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এমন একটি জিনগত উপাদানের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যার সঙ্গে পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। উপমহাদেশের বহু অন্য অঞ্চলের তুলনায় বাংলায় এই উপাদান বেশি করে চোখে পড়ে। বিশেষ করে বাংলার পূর্ব দিকে এর প্রভাব বাড়ার প্রবণতা গবেষকদের নজর কেড়েছে।
কেন এমন হলো? ভৌগোলিক অবস্থানই তার সম্ভাব্য কারণগুলির অন্যতম। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। আর তার পরেই রয়েছে মিয়ানমারের পাহাড়ি অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত ভূখণ্ড। উত্তরে তিব্বত ও হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল। নদীপথ, স্থলপথ, কৃষির বিস্তার এবং মানুষের চলাচল— সব মিলিয়ে বাংলা বহু শতাব্দী ধরে নানা অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ-স্থল ছিল। এই অঞ্চলে এসে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসতি স্থাপন ও পারস্পরিক মেলামেশা ঘটেছে, এমনটাই ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের নানা সূত্র থেকে বোঝা যায়।
পূর্ব দিক থেকে আসা কিছু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এ দেশে ধানচাষের বিস্তার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভাষাগোষ্ঠীগুলির প্রসারের সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা। আবার উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি পথ দিয়ে তিব্বত ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের চলাচলও বহু দিনের। তবে কোন জনগোষ্ঠী ঠিক কখন, কত সংখ্যায়, কোন পথে বাংলায় এসেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনও নেই। ডিএনএ-র সূত্র সেই ইতিহাসের কিছু অংশ উন্মোচন করতে পারে, কিন্তু শুধু জিনগত তথ্য দিয়ে মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা পরিচয়ের সম্পূর্ণ বিবরণ লেখা সম্ভব নয়।
দেড় হাজার বছরের পুরোনো ‘জিনোম ক্লক’
দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটলে তার কিছু চিহ্ন পরবর্তী প্রজন্মের ডিএনএ-তে থেকে যায়। প্রজন্মের পর প্রজন্মে জিনগত অংশগুলির বিন্যাস বদলাতে থাকে। ওই বিন্যাস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা অনুমান করতে পারেন, কত আগে সংমিশ্রণ শুরু হয়েছিল। এই পদ্ধতি কোনও নির্দিষ্ট বছর বা ঘটনার নাম বলে না— সম্ভাব্য সময়সীমা নির্দেশ করে।
বাংলার পূর্বাঞ্চলের কিছু জনগোষ্ঠী নিয়ে করা জিনগত বিশ্লেষণে পূর্ব এশীয় উপাদানের সংমিশ্রণের সময় আনুমানিক দেড় হাজার বছর আগে বলে অনুমান করা হয়েছে। অর্থাৎ মোটামুটি খ্রিস্টীয় পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতকের কাছাকাছি— শশাঙ্কের গৌড়ের সিংহাসনে বসারও আগে। তখন এই অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো বদলাচ্ছিল। কিন্তু জিনগত পরিবর্তন কোনও রাজদরবারের ঘোষণার মাধ্যমে ঘটেনি। তা ঘটেছিল বহু পরিবারের মধ্যে, বসতি থেকে বসতিতে, বিবাহ ও দৈনন্দিন যোগাযোগের ধারায়— ধীরে ধীরে, কয়েক প্রজন্ম ধরে।
পশ্চিমে কম, পূর্বে বেশি
বাংলার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে গেলে পূর্ব এশীয় জিনগত উপাদানের মাত্রা বাড়ার যে প্রবণতা গবেষকেরা জানিয়েছেন, তা অভিবাসনের সম্ভাব্য প্রবাহ বুঝতে সাহায্য করে। বর্তমান বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে এই উপাদান তুলনায় বেশি বলে দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে তার পরিমাণ এক রকম নয়। এই পার্থক্য ইঙ্গিত করে যে, মানুষের আগমন ও মেলামেশা গোটা বাংলায় সমান ভাবে ঘটেনি। পূর্ব দিকের যোগাযোগ-পথ থেকে শুরু করে নদীবিধৌত ব-দ্বীপের ভিতরে মানুষের ছড়িয়ে পড়া— এমন একাধিক প্রক্রিয়াও এর পিছনে থাকতে পারে।
সব বাঙালির ডিএনএ এক নয়
বাঙালির মধ্যে পূর্ব এশীয় বংশধারার গড় অবদান পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশের মধ্যে বলে কিছু বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা প্রত্যেক বাঙালির জন্য নির্দিষ্ট মাপ বা ‘বেঞ্চমার্ক’ নয়। অঞ্চল, সম্প্রদায় এবং পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী এই অনুপাত বদলে যায়। কিছু গোষ্ঠীতে উত্তর-পশ্চিম ইউরেশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বংশধারার অবদান তুলনায় বেশি হতে পারে। অন্যদের মধ্যে আবার প্রাচীন দক্ষিণ এশীয় বা পূর্ব এশীয় উপাদানের প্রভাব বেশি দেখা যায়। দীর্ঘ কাল ধরে সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাহের নিয়ম এই পার্থক্য ধরে রাখতে ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে এই ফারাক কতটা বদলাবে, তা নির্ভর করবে মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের উপর।
নেটিভ আমেরিকানদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত যোগ
বাঙালির জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়গুলির একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের সঙ্গে সম্ভাব্য জিনগত যোগসূত্র। ব্রাজ়িলের গবেষকেরা আমেরিকার আদিবাসীদের জিনগত ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসীদের পূর্বপুরুষেরা বহু হাজার বছর আগে এশিয়া থেকে সাইবেরিয়া হয়ে আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন। সেই প্রাচীন বংশধারার সঙ্গে আজকের কোন এশীয় জনগোষ্ঠীর জিনগত মিল বেশি, তা খুঁজতে গিয়ে পরীক্ষিত নমুনাগুলির মধ্যে বাংলাদেশের বাঙালিদের একটি বংশধারার সঙ্গে তুলনামূলক মিল পাওয়া গিয়েছে বলে সেখানে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই মিলের অর্থ, বাঙালিরা আমেরিকার আদিবাসীদের প্রত্যক্ষ পূর্বপুরুষ, এমন নয়। কিংবা, বাঙালিরা আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিল, এমন দাবিও এর থেকে করা যায় না। বরং পরীক্ষিত জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি প্রাচীন সাধারণ বংশধারার সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত উপাদানের মিলের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ইতিহাসে অভিবাসন ও সংমিশ্রণের যে জটিল জাল রয়েছে, এই অনুসন্ধান তারই একটি সূত্র।
বাঙালির জিনগত পরিচয় কোনও একক উৎসের গল্প নয়। প্রাচীন দক্ষিণ এশীয় শিকারি-সংগ্রাহক, ইরানের মালভূমির কৃষিজীবী, মধ্য এশিয়ার পশুপালক এবং পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠী— বিভিন্ন সময়ের নানা ধারার সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ইতিহাস। তবে চারটি উৎসের এই ব্যাখ্যা একটি বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক ছবির সরল রূপ মাত্র। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত বংশপরিচয় এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দক্ষিণ এশিয়ার বহু জনগোষ্ঠীর শরীরে প্রধানত তিনটি বড় বংশধারার বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রণ দেখা যায়। বাঙালিদের ক্ষেত্রে পূর্ব এশীয় বংশধারার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তাঁদের জিনগত ইতিহাসকে আরও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
বাঙালির ভাষা, গান, খাদ্যাভ্যাস, সাহিত্য কিংবা সামাজিক জীবনকে শুধু ডিএনএ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সংস্কৃতি তৈরি হয় ইতিহাস, পরিবেশ, শিক্ষা, বিশ্বাস এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। তবু জিনগত গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিচয়ের গভীরে রয়েছে চলাচল ও মেলামেশার স্মৃতি। নদীর ব-দ্বীপ যেমন নানা স্রোতকে একসঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে মেশে, তেমনই বাংলার জনসমষ্টিও বহু পুরোনো স্রোতের মিলনে তৈরি।
আজকের বাঙালি তাই কোনও একক, অপরিবর্তিত শিকড়ের উত্তরাধিকারী নয়। তার শরীরে রয়েছে বহু ভূখণ্ডের মানুষের অতীত যোগাযোগের ছাপ। ইতিহাসের বইয়ে যাদের নাম নেই, তাদেরও রেখে যাওয়া চিহ্ন কখনও কখনও কোষের মধ্যে টিকে থাকে। সেই চিহ্ন পড়ে বিজ্ঞানীরা অতীতের কিছু হারানো পথ খুঁজে পান। আর আমরা বুঝতে পারি যে, মানুষের ইতিহাস আসলে বিচ্ছিন্ন জাতির সারি নয়— এ এক দীর্ঘ, চলমান মিলনকাহিনি। এই অনুসন্ধান অতীতের সূত্র দেয়, কিন্তু কোনও শেষ কথা বলে না। তাই জিন গবেষণা চলতেই থাকবে।
