Published on
:
2 min read
এই সময়, গুসকরা: লক্ষ্মীগঞ্জে গ্রাম্যবিবাদের তদন্তকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ি চত্বর। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েক জন গ্রামবাসীকে ফাঁড়িতে ডাকার পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে শতাধিক মানুষ সেখানে জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশকর্মীদের বচসা থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একসময়ে উত্তেজিত জনতার একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। লাঠি এবং রড নিয়েও হামলা চালানো হয়।
ঘটনায় গুসকরা ফাঁড়ির এক সাব-ইনস্পেক্টর–সহ চার–পাঁচ জন পুলিশকর্মী জখম হন। এই হামলা চালানোর জন্য ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েক জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার লক্ষ্মীগঞ্জ গ্রামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে গ্রামবাসীর বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। তাতে বেশ কয়েক জন জখম হন। খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। বিবাদের প্রকৃত কারণ এবং মারধরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেলে গ্রামের চার–পাঁচ জন বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুসকরা ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শতাধিক মানুষ ফাঁড়ির সামনে জড়ো হন। ওই ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা সরব হন। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই ফাঁড়ি চত্বরে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। একসময়ে উত্তেজিত জনতার একাংশ পুলিশকর্মীদের উপরে হামলা চালায়।
গুসকরা ফাঁড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীর একাংশের হামলায় জখম পুলিশকর্মীদের গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলা চালানোর জন্য ১৫ জন গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে। লক্ষ্মীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দাদের পাল্টা অভিযোগ, ফাঁড়ির সামনে জড়ো হওয়া মানুষজনকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠি চালায়। তাতে কয়েক জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তবে আহত গ্রামবাসীর সঠিক সংখ্যা এবং তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। এ বিষয়ে পুলিশের উপরমহলের তরফে কেউ কিছু বলেননি।
