মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার পর হাসপাতালের একটি কার্যালয়ের পাশের জানালায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ঘটনার পর পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে হাসপাতালের অফিসকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। পাশাপাশি এলাকায় কেউ যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।যেভাবে ঘটল ঘটনা
হাসপাতালের প্রধান ডা. মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর জানান, গত শনিবার রাত ৯টার পর হাসপাতালের ইউএইচএনএফপিও কার্যালয়ের পাশের জানালায় কে বা কারা ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে জানালার উত্তর পাশের একটি কাচ ভেঙে যায়।
ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে হাসপাতালের অন্যান্য ভবনে লোকজন ছিলেন। বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও পাহারারত আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার কাচ ভাঙা দেখতে পান। তবে অন্ধকারের কারণে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালের অন্য একটি অংশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে দেখতে পাননি। তাঁর ধারণা, বস্তুটি নিক্ষেপ করেই দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে অপরাধীরা কোনো ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে না পারে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের দলনেতা মুনির আহমদ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি তখন হাসপাতালের বাইরে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে চোরাচালান ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় সীমান্ত চোরাচালান বৃদ্ধি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা সদর হাসপাতালে ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি।
হাসপাতালে সাত আনসার সদস্য নিয়োগ
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর জননিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা হাসপাতালে সাতজন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা পালাক্রমে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। তবে এত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
The post নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপ, জানালার কাচ ভাঙচুর, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ-বিজিবি appeared first on sokalerkhobor24.com.
