অধিনায়ক শাই হোপের রেকর্ডগড়া শতক এবং পেসার কিমো পলের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা ফেরাল সফরকারীরা। চলমান ভারত সফরে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা হোপ নিজের খেলা শেষ সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি তুলে নিলেন, যার মধ্যে দুটি ওয়ানডেতে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। আগামী শনিবার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৭ রানের পাহাড় গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যারিবীয় দলপতি হোপ; ৫০ বলে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি শেরফান রাদারফোর্ড ২৬ বলে অপরাজিত ৪৯ এবং শিমরন হেটমায়ার ১২ বলে ঝড়ো ৩৩ রান করেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের দুটি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড পেছনে ফেলে প্রথম ক্যারিবীয় ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ তিনটি শতকের ইতিহাস গড়লেন হোপ, যার প্রতিটি ইনিংসই কাকতালীয়ভাবে থেমেছে ১০২ রানে। এছাড়া কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি শতক হাঁকিয়ে তিনি ফিল সল্ট, সঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা ও মোহাম্মদ ইহসানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
জবাবে ২৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিক ভারত। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের আগের সর্বোচ্চ ২০৯ রান তাড়ার রেকর্ড ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে নেমে মাত্র তিন ওভারেই ৫০ রান পূর্ণ করে দ্রুততম দলীয় ফিফটির নতুন নজির গড়ে তারা। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে আউট হন। তবে অপর ওপেনার অভিষেক শর্মা ২৪ বলে ২৯ রান করে কিছুটা ধীরগতির থাকায় এবং মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ভারতীয় দল।
মাঝের চাপ সামলে ভারতকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিলক ভার্মা ও তরুণ অলরাউন্ডার নীতিশ কুমার রেড্ডি। তিলক ২৫ বলে ৪৩ এবং নীতিশ ২০ বলে ৪১ রানের দারুণ দুটি ইনিংস খেললে ম্যাচ জমিয়ে তোলে স্বাগতিকরা। তবে তাদের সেই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন ক্যারিবীয় পেসার কিমো পল। একাই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে তিনি ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডার তছনছ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩ বল বাকি থাকতেই ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
বড় সংগ্রহ এনে দেওয়া ব্যাটারদের দৃঢ়তা এবং চাপের মুখে বোলারদের সময়োপযোগী পারফরম্যান্সে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে সিরিজে ফিরে এলো, তা শেষ ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। উভয় দলের সামনেই এখন সিরিজ জয়ের সমান সুযোগ তৈরি হয়েছে।
