চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) জেলা হাসপাতাল থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি থাকা ৯০ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ, ৩৪ জন নারী ও ২১ জন শিশু। শিশুদের মধ্যে ৮ জন ছেলে এবং ১৩ জন মেয়ে।
এর আগে, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৮১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ১৬ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছেন। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য একজন নারী রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মোট ২,৪৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন মোট ১,৯২৫ জন রোগী। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতাল থেকে মোট ১৫৮ জন ডেঙ্গু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে এবং হাসপাতালটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।
এদিকে, হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডের জন্য মশারির ব্যবস্থা করা হলেও রোগীরা তা ব্যবহার করছেন না। টাঙানো মশারি গুটিয়ে রেখে খোলা অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে অধিকাংশ রোগীকে, যা হাসপাতালের অন্য রোগী ও স্বজনদের জন্য মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার মশারি এবং বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়া মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন মাসুদ রানা বলেন, ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগে না। প্রচুর গরম লাগছে। মশারি টাঙালে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। তাই গরমের কারণে মশারি দিয়ে থাকা যাচ্ছে না।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হাসান বলেন, আমরা যখন রাউন্ডে যাই তখন রোগীদের মশারি টাঙাতে বলি। তখন তারা মশারির মধ্যে থাকছে, কিন্তু আমরা ফিরে আসলে তারা আবার বের হয়ে যাচ্ছে। এই একটি ব্যাপার ডেঙ্গু বিস্তারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। আগে হয়তো বলা হতো ডেঙ্গু মশা পড়ন্ত বিকেলে কামড়ায়, কিন্তু এখন সেটা মানা হচ্ছে না। এখন ডেঙ্গু মশা যে-কোনো সময় ২৪ ঘণ্টায় কামড়াতে পারে। তাই সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ফুলহাতা শার্ট ও পান্ট ব্যবহার করতে হবে এবং আমাদের মশারির ভিতরে থাকতে হবে।
মো. আশিক আলী/এইচএস
