জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হানিফ মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণের সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় থাকা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার সময় হানিফ মিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। টেলিভিশনে এসব নেতার বৈঠক করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে ১৪ দলের নেতাদের নাম বলতে বলেন। তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের ঘেরের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম উচ্চস্বরে বলেন, ‘এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষীকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন।’
এ সময় কামরুল ইসলামকে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন। আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’ তিনি আরও বলেন, আসামির কাঠগড়া থেকে এভাবে উচ্চস্বরে কথা বলা আদালতের প্রতি চরম অবমাননাকর।
পরে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল হয়নি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায় তিনি নাম বলতে বলেছেন।’
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, ‘It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।’ জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা লিডিং প্রশ্ন না।’
এরপর সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কামরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার সকালে কারাগার থেকে মেনন ও কামরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।
গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও মাইনুল ইসলাম নিখিলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সালমান এফ রহমানের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানির জন্য আজ ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন জানায়, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দেশের বাইরে থাকায় তারা আজ শুনানি করতে আগ্রহী নয়। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করেন।
