ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে একসঙ্গে দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম তখন কিন্তু আমরা কোন ধর্ম দেখিনি। প্রত্যেকটি মানুষ বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন মতের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল, ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল এবং যে মানুষগুলো নেমে এসেছিল সেই মানুষগুলোর ভেতরেও সব ধর্মের মানুষই ছিল। সব মত সব শ্রেণী-পেশার মানুষ ছিল। ঠিক একইভাবে বেশিদিন আগের কথা নয় দুই আড়াই বছর আগের কথা বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই দেশের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সেই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখব সেই দৃশ্যের মধ্যে আমরা এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের সম্মেলন সেখানে হয়েছিল। সব মানুষকে আমরা দেখেছিলাম দলমত বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এই কথাগুলো আমার বলার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে যে দেখুন এই দেশটি হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। শান্তিতে আমরা সবাই মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ এই দেশে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেমন সবাই মিলে সব ধর্মের মানুষ মিলে এদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আমরা এদেশে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই তাহলে আমাদের সব ধর্ম মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’
বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দির প্রাঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে তাকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। ছোট শিশুরা নৃত্য পরিবেশনা করে তাকে অভ্যর্থনা জানায়।
প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে এসে পুজারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।
এটিভি/এসটিও
