The Sangbad · সাধারণ
‘ঘর যেন ধীরে ধীরে তার একাকিত্ব চিনতে শেখে’
১৫/১০/২০২৬

রবিবারধোয়া কাপড়গুলো সন্ধ্যার ধূসর মুখেঅস্থির পাখির ডানার মতো কাঁপে।রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে ঠাণ্ডা জমে।পাতারা নিজেদের আরও কাছে টেনে নেয়।রান্নাঘরের আলো জ্বলে—ঘর যেন ধীরে ধীরে তার একাকিত্ব চিনতে শেখে।সন্ধ্যার নরম, ভেজা রহস্যগুলোঅন্ধকারের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দরজা খুলে দেয়।মাকে ফোন করার সময় হয়েছে।ফোনটা বাজুক।ছয়বার।সাতবার।আটবার— তারপরতিনি রিসিভার তোলেন;কিন্তু কথার আগে দীর্ঘ এক নীরবতা থাকে।দূরের ফাঁপা অন্ধকারেমাঠ-ইঁদুরেরা শুকনো পাতার মতোনিঃশব্দে ছুটে বেড়ায়।বিধিরেখামায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখি। ফোনের পাশে বইগুলোর পিঠ।পেপারক্লিপচীনামাটির পাত্রে। ডেস্কজুড়ে ভুলে থাকা রবারের ধুলো। মা বলেনআকুল হয়েমৃত্যুর কথা। আমি সব পেপারক্লিপকে অন্যদিকে মুখ ফেরাই।জানালারবাইরে তুষার সোজা রেখা হয়ে পড়ছে। আমার মাকে,আমারজীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে, আমি বলি ব্রাঞ্চে কী খেয়েছি। তুষারের রেখাগুলো নেমে আসেআরও দ্রুতএখন। নিয়তি যেন তাদের প্রান্তে ভার বেঁধে দিয়েছে— আমাদের দূরে সরাতে। আমি চাইতাকে বলতে— এও হয়তো ঈশ্বরের করুণা। তিনি আর কথা বাড়াবেন না,তিনিআমার বিল বাড়াবেন না। অলৌকিকতা নিঃশব্দে আমাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। সেইপেপারক্লিপগুলোচিরকালীনভাবে সারিবদ্ধ। ঈশ্বরের করুণা! আর কতকালএভাবেজ্বলবে হৃদয়— স্নেহশীল হতে চাওয়া শিশুটি বলেছিল।আমাদের নিয়তিসন্ধ্যার ঘরে মায়ের শেষ শেখানো কথাটিপশ্চিম আকাশ ভেঙে দেয়, সব হিসাবের দরজা বন্ধ করে।রাতে জানালায় চোখ রাখো— মানুষদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে।ওরা আসলে আমরা— ঘরের ভেতরে থাকার জন্য একদিন অজুহাত ছিল আমাদের।দিন এলো; আমরা ফল কেটেছিলাম, আর সঙ্গেকেটে ফেলেছিলাম গাছটিকেও। এখন আমরা বাইরে।এভাবেই তো এক পুরোনো ঋণশোধ হলো।এখন আর কোনো আশ্রয় নেইনিঃশ্বাস আর মৃত্যুর প্রাগৈতিহাসিক টানাপড়েনে আরেক রাতের ঘুম এসে জোটে।আমরা আমাদের ঘরটি অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার কথা মেনে নিই।সবকিছু মিলে যে জীবন,তার টুকরোগুলোই বা কোথায় হারাল?নিঃশব্দে পাতা, জানালা— সবই যেন অপেক্ষায় থাকে।খালি কাপড়ের দড়ি ঢালু অন্ধকারের বুক চিরে চলে যায়।হারিয়ে যাওয়া আকাশের আলোর পোশাকের জন্য শোক তুলেদেবদূত আর উড়ে যাওয়া ধুলোজঞ্জাল আমাদের বন্ধ ফটক পেরিয়ে ডাকতে ডাকতে সরে যায়।আজ তার দাম্পত্যের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিলশীত প্রাচীন রোমান দেয়ালটিকে লক্ষ্য করে নিজের শোকের ভাষণ দেয়।তীব্র আলো— (ভুবন ভরা)আর ছায়ারা থেমে থাকেনেমে আসতে থাকা গুণ্ঠনের অপেক্ষায়।মস্তিষ্কের অনুরণনদুবার,এক চিমটি লবণের জন্য।ওভিদই কী বলেছিলেন— এখানে এমন বাতাস যে পাথরগুলোও ফিকে হয়ে যায়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗