প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মচারীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবার কথা বাদ দিয়ে অন্তত নিজের সন্তানের কথা ভেবে হলেও একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নগর ভবন পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী জরুরি পরিচালন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
সভায় নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। একটি শিশু কেবল নিজ বাড়ি বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠসহ শহরের নানা প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। তাই শুধু নিজের আঙিনা নয়, পুরো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রাতারাতি এক দিনে কিংবা এক সপ্তাহে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ ও আন্তরিক হন, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটানো সম্ভব। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের ষাট ও সত্তরের দশকের উদাহরণ টেনে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এবং নাগরিক সচেতনতার ফলেই সেখানকার পরিবেশগত পরিবর্তন এসেছে। বিদেশ ভ্রমণের পর শুধু আক্ষেপ না করে নিজ শহরকে সুন্দর করতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মমূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি নিজেদের কাজের মূল্যায়ন করাও জরুরি। প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব কতটা সঠিকভাবে পালন করছেন এবং সমস্যা সমাধানে কতটুকু আন্তরিক, তা নিয়ে নিজেদের ভাবতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেও প্রতিয়মান হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রেখে আরও অনেকদূর যেতে হবে।
মতবিনিময় সভা ও পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।
