The Sangbad · সাধারণ
অস্ত্রোপচারের আগে খালি পেটে থাকতে বলেন কেন?
২০/১০/২০২৬

অস্ত্রোপচারের আগে নির্দিষ্ট
সময় পর্যন্ত
খাবার ও
পানীয় গ্রহণ
থেকে বিরত
থাকতে বলেন
চিকিৎসকেরা।
বিশেষ করে
সকালে অস্ত্রোপচার
নির্ধারিত থাকলে দীর্ঘ সময় না
খেয়ে থাকা
রোগীদের জন্য
অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে এই নির্দেশের পেছনে
রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসাগত
কারণ।
অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার সময় পাকস্থলীর খাবার
বা তরল
শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করলে
গুরুতর জটিলতা
দেখা দিতে
পারে।তবে অস্ত্রোপচারের
আগে কতক্ষণ
না খেয়ে
থাকতে হবে,
তা সবার
জন্য এক
নয়। খাবারের
ধরন, অস্ত্রোপচারের
প্রক্রিয়া, অ্যানেস্থেশিয়ার পদ্ধতি এবং রোগীর
শারীরিক অবস্থার
ওপর নির্ভর
করে এ
সময় নির্ধারণ
করা হয়।অ্যানেস্থেশিয়ার আগে উপবাস কেন জরুরি?অস্ত্রোপচারের আগে না
খেয়ে থাকার
অন্যতম কারণ
হলো পালমোনারি
অ্যাসপিরেশনের ঝুঁকি কমানো। পাকস্থলীর খাবার,
তরল বা
অন্যান্য উপাদান
শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করলে
এই জটিলতা
তৈরি হতে
পারে।সাধারণ অবস্থায় কাশি ও গিলে
ফেলার মতো
প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া খাবারকে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ
করতে বাধা
দেয়। কিন্তু
জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার
সময় রোগী
অচেতন থাকেন
এবং এসব
প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়।এ ছাড়া
অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধ শরীরের কিছু পেশি
শিথিল করে
দিতে পারে।
ফলে পাকস্থলীর
উপাদান উল্টো
দিকে খাদ্যনালিতে
উঠে আসার
ঝুঁকি তৈরি
হয়। সেই
উপাদান ফুসফুসে
প্রবেশ করলে
প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট
এবং গুরুতর
ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী
জটিলতা দেখা
দিতে পারে।তাই অ্যানেস্থেশিয়া
দেওয়ার আগে
পাকস্থলী যথেষ্ট
খালি রাখার
চেষ্টা করা
হয়, যাতে
অ্যাসপিরেশনের ঝুঁকি কমানো যায়।খাবারের
ধরন অনুযায়ী উপবাসের সময় আলাদাখাওয়ার পর খাবার পাকস্থলীতে কিছু
সময় থাকে।
এরপর তা
ধীরে ধীরে
ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। পাকস্থলী খালি
হতে কতক্ষণ
লাগবে, তা
খাবারের পরিমাণ
ও ধরনসহ
বিভিন্ন বিষয়ের
ওপর নির্ভর
করে।সাধারণভাবে কঠিন খাবার, বিশেষ করে
চর্বিযুক্ত খাবার, স্বচ্ছ তরলের তুলনায়
পাকস্থলী থেকে
বের হতে
বেশি সময়
নেয়। তাই
সব ধরনের
খাবার ও
পানীয়ের জন্য
একই সময়
উপবাসের নির্দেশ
দেওয়া হয়
না।সাধারণ নির্দেশিকায় অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের
ঐচ্ছিক অস্ত্রোপচারের
ক্ষেত্রে সময়গুলো
এমন হতে
পারে:·
স্বচ্ছ তরল: সাধারণত অ্যানেস্থেশিয়ার
দুই ঘণ্টা
আগে পর্যন্ত
পান করার
অনুমতি থাকতে
পারে।·
হালকা খাবার: সাধারণত অন্তত
ছয় ঘণ্টা
উপবাসের প্রয়োজন
হতে পারে।·
ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার: আট ঘণ্টা
বা তার
বেশি সময়
উপবাসের প্রয়োজন
হতে পারে।স্বচ্ছ তরলের উদাহরণ হলো পানি,
শাঁস ছাড়া
ফলের রস
এবং দুধ
ছাড়া কালো
চা বা
কফি। তবে
হাসপাতালের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত পানীয়ের
তালিকা ভিন্ন
হতে পারে।এগুলো সাধারণ
সুপারিশ মাত্র।
রোগীর অবস্থা
ও হাসপাতালের
নিয়ম অনুযায়ী
উপবাসের সময়
পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিজের
সিদ্ধান্তে খাবার বা পানীয় গ্রহণ
না করে
চিকিৎসক
ও অ্যানেস্থেশিয়া
দলের নির্দেশনা
অনুসরণ করা
জরুরি।নির্দেশনার আগে খেলে বা পান করলে কী হতে পারে?অস্ত্রোপচারের আগে নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে
খাবার বা
পানীয় গ্রহণ
করলে অ্যানেস্থেশিয়ার
সময় অ্যাসপিরেশনের
ঝুঁকি বাড়তে
পারে। এ
কারণে রোগীর
পাকস্থলী যথেষ্ট
খালি হয়েছে
কি না,
তা নিয়ে
সংশয় থাকলে
চিকিৎসক
অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে বা নতুন
সময় নির্ধারণ
করতে পারেন।তবে ভুলবশত
কিছু খেয়ে
ফেললেই যে
প্রত্যেক রোগীর
জটিলতা হবে,
এমন নয়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে অ্যানেস্থেশিয়া দল
পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্ধারণ করে।এ ক্ষেত্রে
রোগীর কাছ
থেকে সঠিক
তথ্য পাওয়া
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু খেয়ে
বা পান
করে ফেললে
তা চিকিৎসককে জানাতে হবে।
অল্প পরিমাণ
খাবার, দুধ
বা অন্য
পানীয় গ্রহণের
বিষয়টিও গোপন
করা উচিত
নয়।অস্ত্রোপচারের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেনঅস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময়
শুধু কখন
থেকে খাবার
বন্ধ করতে
হবে, তা
জানলেই যথেষ্ট
নয়। কোন
পানীয় কখন
পর্যন্ত গ্রহণ
করা যাবে,
সে বিষয়েও
চিকিৎসকের
কাছ থেকে
পরিষ্কার নির্দেশনা
নিতে হবে।বিশেষ করে
রোগীর শারীরিক
অবস্থা, অস্ত্রোপচারের
ধরন ও
অ্যানেস্থেশিয়ার পদ্ধতি অনুযায়ী নির্দেশনা ভিন্ন
হতে পারে।
তাই সাধারণ
ছয় ঘণ্টার
নিয়মকে সবার
জন্য প্রযোজ্য
ধরে নেওয়া
ঠিক নয়।অস্ত্রোপচারের আগে উপবাসের
মূল উদ্দেশ্য
রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়ার
জন্য নিরাপদভাবে
প্রস্তুত করা।
এ কারণে
নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি
ভুলবশত কিছু
খাওয়া বা
পান করার
ঘটনা ঘটলে
তা চিকিৎসককে জানানোই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗