বাঙালি মানেই ভোজন রসিক। দুর্গাপুজোর সময় সবাই নো ডায়েট মুডেই থাকেন। তাছাড়া সারা বছর যে যতই ডায়েট করুক না কেন পুজোর দিনগুলোতে সেসব আর খাটে না। পুজোয় খাওয়া-দাওয়ার পর এক লাফে ওজনও বেড়ে যায় অনেকটা। তাই পুজো মিটতে না মিটতেই ওজন কমানোর চিন্তা শুরু হয়ে যায় সকলের।
আর এখানেই ভুল করে বসেন অনেকে। দ্রুত ওজন কমানোর চক্করে এই সময়ে অনেকে ডিটক্স ড্রিঙ্ক, ফলের রস কিম্বা অন্য কোন কড়া ডায়েটের শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রশ্ন হল শরীর থেকে এই বাড়তি মেদ ঝরানোর জন্য আদৌ কি ডিটক্সের প্রয়োজন আছে? কিম্বা এরফলে শরীরে কি প্রভাব পড়তে পারে? এগুলো জানাও অত্যন্ত জরুরী।
তাই হুট করে এক দিনেই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে তাড়াতাড়ি রোগা হওয়ার চেষ্টা না করে কিংবা কোনো কঠোর ডায়েটের মধ্যে না গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলাই অনেক বেশি উপকারী বলে দাবি করে থাকেন অধিকাংশ পুষ্টিবিদরা।
ফল ও শাকসবজি
রোজকার খাবারে ফলের সাথেই শাকসবজি, ডাল আর গোটা শস্যজাতীয় খাবার রাখুন। ফাইবার সমৃদ্ধ এই সমস্ত খাবারগুলি যেমন হজমে সাহায্য করে তেমনই অনেকক্ষণ পেট ভরিয়েও রাখতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিনের জন্য মাছ ডিম ডাল কিংবা পনিরও খাওয়া যেতে পারে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান
সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা আবশ্যক।কারণ শরীরে জলের ঘাটতি হলেই ক্লান্তি ভাব আসতে পারে। যার ফলে হজমেও সমস্যা হয়।
মিষ্টি ও ভাজাভুজি কম খান
উৎসবের দিনগুলিতে মিষ্টি কিংবা ভাজা ভুজি একটু বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই উৎসব শেষ হতেই অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, মিষ্টি এগুলো খাওয়া কমিয়ে ফেলতে হবে। তবে নিয়মিত এই সমস্ত খাবার খাওয়া না গেলেও মাঝে মধ্যে পরিমাণ বুঝে খাওয়া যেতেই পারে।
হাঁটা, ঘুম এবং নিয়ম মাফিক জীবনযাপন
শুধু পুজোর পরে বলে নয়, সারা বছরই নিয়ম করে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা কিংবা হালকা ব্যায়াম করা দরকার। তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই হবে না, সেই সাথে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম আর নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস।
https://youtu.be/vZCv49OXTLI?si=YxWdb1kCOr6QPuNg
তাই পুজোর পরেই ওজন বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করার অভ্যাস অনেক বেশি কার্যকরী। এই কারণেই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দ্রুত ওজন না কমিয়ে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকরি বলে দাবি করেন পুষ্টিবিদরাও।
