শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক। একই সময়ে দেশের দুই শেয়ারবাজারেও বন্ধ থাকবে লেনদেন। আগামী শনিবার পর্যন্ত এই বিরতি চলবে। ছুটি শেষে রোববার, ২৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের বিরতি তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও এ সময়ে লেনদেন হবে না। ফলে ব্যাংকিং কার্যক্রম ও পুঁজিবাজারের লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ করতে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের ছুটির সময়সূচি বিবেচনায় রাখতে হবে।
তবে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও গ্রাহকদের জন্য কিছু সেবা চালু থাকবে। এটিএম বুথের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনসহ নির্ধারিত সেবা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে যেসব লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা এবং উপশাখায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এসব শাখাকে স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর ফলে ছুটির মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জরুরি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
দুর্গাপূজার ছুটির আগে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে গত শনিবার, ১৭ অক্টোবরও ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছিল। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও ওই দিন নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
টানা পাঁচ দিনের বিরতির কারণে যাঁদের চেক জমা, অর্থ স্থানান্তর, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা অন্যান্য ব্যাংকিং কাজের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের ছুটির সময়সূচি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেন ও জরুরি আর্থিক কাজ ছুটির আগেই সম্পন্ন করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘোষিত ছুটি ও সাপ্তাহিক বিরতি শেষে ২৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত সেবা ছুটির সময়েও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।
