‘আমি তো এই ঝামেলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী যেভাবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে হাঁটাচলা করে, আমিও সেভাবেই হাঁটছিলাম।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাকিব তার ফেসবুক পোস্টে এভাবেই নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এটাও ইংলিশের, এটাকে ধর' বলেই আঘাত করা শুরু করে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার অপরাধটা কী ছিল?’
গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তুচ্ছ ঘটনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আহত হন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব। কিছুটা সুস্থ হয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে সেদিন রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাকিব দাবি করেন, সংঘর্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে তিনি নিজের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারামারি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে কলা ভবনের পেছনে একদল শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, হামলাকারীদের একজন তাকে ‘এটাও ইংলিশের, এটারে ধর’ বলে শনাক্ত করার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ড্রেনের ওপর ফেলে মাথায় রড বা স্ট্যাম্প দিয়ে পরপর তিনটি আঘাত করা হয়। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থাতেই তার সারা শরীরে রড, স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি জ্ঞান ফেরার পরও তাঁকে লাথি মারা হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
সাকিবের অভিযোগ, হামলার সময় উপস্থিত কেউ কেউ তাকে ঘটনাস্থলে না থাকার কথা বললেও মারধর থামেনি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার সময়ও তিনি হামলাকারীদের কাছে জানতে চান, কেন তাকে এভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উত্তরে তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘তোর হাতে রড ছিল কেন?’ তবে তাঁর বক্তব্য, তাঁর হাতে কোনো রড ছিল না।
পোস্টে নিজের সঙ্গে সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সাকিব প্রশ্ন করেন, কারও সঙ্গে শত্রুতা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে এভাবে হামলার শিকার হতে হলো। তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়ে তোমরা আমার জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছ। আমার পুরো পরিবারের সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছ তোমরা।’ একই সঙ্গে অন্যদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে এমন ঘটনা যেন আর কারও জীবনে না ঘটে, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।
এর আগে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছিল নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। পাশেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলছিলেন। এসময় খেলার মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বারবার ফুটবল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও বাউন্ডারির কাছে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে খেলা শেষ হওয়ার পর বিরোধ মীমাংসায় দুই পক্ষ একসঙ্গে হলে আবারও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীরা অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে এবং পেছনে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ৬ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত ৬ শিক্ষার্থীর চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও দুইজনকেও মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মো. তাসনিম হক রাফি/এসএন
