ভোট কারচুপির অভিযোগে কনট প্লেসে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি বিশেষ আদালত। খবর এনডিটিভির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে স্বাক্ষর ও ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার শর্তে জামিন প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই মন্দির মার্গ থানা থেকে মুক্তি পান দীপকে।
এর আগে, দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অভিজিৎ দীপকে ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে নেহা বোরাকে শনিবার ভোরে পুলিশি নিয়মকানুন সম্পন্ন করে ছেড়ে দেওয়া হলেও অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে নতুন মামলা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে গত ১০ অক্টোবরও দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছালে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে দীপকে আটক করে পুলিশ। তখন এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা বা বন্ডে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল।
এদিকে, মুক্তির পর এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরা এই আটক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ অ্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি চলমান এই ছাত্র ও বিরোধীদের আন্দোলনকে ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত’ এবং ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল।
