গত ৫ মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মধ্যপ্রাচ্যে তেল স্থাপনা ও ট্যাঙ্কারে ইরান এবং হুথি মিত্রদের সাম্প্রতিক হামলার দাবির মুখে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ’ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার দাম গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার অতিক্রম করে, যা পরবর্তীতে কিছুটা কমে ১১০ দশমিক ৩০ ডলারে থিতু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড ’ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’-এর দামও লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ দশমিক ৭৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
আরও পড়ুন
যুক্তরাজ্যের ’ইউকেএমটিও’ জানিয়েছে, ওমান উপকূলে এক সামরিক বাহিনী ও তেলের ট্যাঙ্কার সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর তারা সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির রেভোলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে নৌ-মাইনের আঘাতে দুটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগের দিন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডোরের নিকটবর্তী ইয়ানবু শহরের সৌদি আরামকো স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার দাবি করে।
তেল সরবরাহে এই চরম ঘাটতি অপরিশোধিত তেল বিক্রেতাদের বিপাকে ফেলেছে, যার দায় আলটিমেটলি রিফাইনারি ও পাম্পগুলোর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর গিয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের জাতীয় গড় দাম গ্যালন প্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৭ ডলারে (গ্যাসবাডির মতে ৪ দশমিক ৩৪ ডলার), যা ফেব্রুয়ারির শেষভাগের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩০ ডলার বেশি।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি মার্কিন ভোটার ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরণের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির সংকট তৈরি করায় যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রয়োজনীয় তেলের সামান্য অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করলেও, বিশ্ববাজারের প্রভাব সরাসরি মার্কিন ড্রাইভার ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পড়ছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
আজহার/
আরও পড়ুন
ফ্রান্সকে ইসলামের অভয়ারণ্য বললেন নেতানিয়াহু
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
-->অর্থনৈতিক মন্দাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে সপ্তাহান্তের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি উস্কানিমূলকভাবে দাবি করেছেন, ফ্রান্স ’উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের’ শিকার হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের চরম ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের বক্তব্যের সঙ্গেই মিলে যায়, যারা অভিবাসনের কারণে যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের বিভিন্ন অংশ ইসলামিক আইনের অধীনে চলে যাচ্ছে বলে ভিত্তিহীন দাবি করে থাকেন। এ ধরনের মন্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই ইসলামোফোবিয়া (ইসলামবিদ্বেষ)-এর অভিযোগ ওঠে।
একটি সাক্ষাৎকারে ডানপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্যারিসসহ মূল শহরগুলোতে নানা শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণে হওয়া এই আন্দোলন ও অসন্তোষ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন ফরাসি নেতারা। তিনি দাবি করেন, এই অস্থিরতা উগ্রপন্থি মুসলমানদের দ্বারা ইন্ধনপ্রাপ্ত।
আরও পড়ুন
ফরাসি ভাষার সংবাদ মাধ্যমে দোভাষীর অনুবাদ অনুযায়ী নেতানিয়াহু বলেন, ’তারা সময়ে প্রস্তুতি নেয়নি, তারা স্রেফ হাল ছেড়ে দিয়েছে। তারা উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’
ফ্রান্সকে তিনি কী পরামর্শ দেবেন জানতে চাওয়া হলে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা না দিয়েই নেতানিয়াহু বলেন, ’পাল্টা লড়াই করুন, কোনো তোষণ নীতি অনুসরণ করবেন না-উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করুন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন, ’আমরা যদি ওদের এখানে নির্মূল না করি, তবে আপনারা ওদের প্যারিসে দেখতে পাবেন-এবং ঠিক সেটাই এখন ঘটছে।’ তবে নিজের এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
গত বছর যেসব ইউরোপীয় দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ফ্রান্স ছিল তাদের অন্যতম; যা ইসরায়েলকে চরম ক্ষুব্ধ করেছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফরাসি বিক্ষোভকে পুঁজি করে অভিবাসন ব্যবস্থা ও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেছেন এবং ইউরোপকে সীমান্ত আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আরব নিউজ
আজহার/
আরও পড়ুন
মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩, আহত ৩৪
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমাঞ্চলে একটি বড় ট্রাকের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন আহত ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি সড়কে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে। ক্রেনের সাহায্যে বাসটি সরানো হয় এবং সড়কের পাশে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বাসের বিভিন্ন ভাঙা অংশ ও যাত্রীদের আসনগুলো।
আরও পড়ুন
আহত ব্যক্তিদের গিজার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, যানবাহনের বেহাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার কারণে মিসরে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
মিসরের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত মাসে সিনাই উপদ্বীপে এক বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন জর্ডানেরে নাগরিক0 মোট ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া গত আগস্টে উত্তর মিসরে কৃষি শ্রমিকবাহী দুটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে অনেক শিশুসহ অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সূত্র: আরব নিউজ
আজহার/
আরও পড়ুন
৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ এএম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
-->যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের বর্তমান দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লক্ষেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতুলের এই হার ও গতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রদত্ত এক হালনাগাদ তথ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, তার এই কড়া অভিবাসন নীতি এবং নির্বাসন অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এই অভিযানের কারণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পাশাপাশি এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে-যারা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুত গতিতে এবং সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিল করেছে।’
পিগট আরও উল্লেখ করেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসকল বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করবেন, জালিয়াতি করবেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবেন, তাদের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তবে যেসব ভিসা বাতিলের ঘটনা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলের গাজা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারী এবং রক্ষণশীল মন্তব্যকারী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করা বিদেশিদের ভিসা বাতিল।
বিক্ষোভকারী বিদেশি নাগরিকদের নির্বাসনের চেষ্টার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রিনিং ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
ফ্রান্সে বিক্ষোভের আগুন, চাপে ম্যাক্রোঁ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে গিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই অস্থিরতা দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান ম্যাক্রোঁ। তাঁর লক্ষ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের একপর্যায়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। দাঙ্গা মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধান শহরগুলোর মেয়ররাও।
আরও পড়ুন
সহিংসতার জন্য কট্টর-বামপন্থিদের দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তাঁর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে উগ্র-বামপন্থিরা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থি—উভয় শিবিরই নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বামপন্থি নেতা জ্যঁ-লুক মেলেশোঁর দল ফ্রান্স আনবাউড শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। দলটির কর্মসূচিতে শিক্ষায় বিনিয়োগ, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা পারকুরসুপ বাতিলের মতো দাবি রয়েছে।
লে একোর জন্য ওপিনিয়নওয়ের একটি জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে মেলেশোঁর সমর্থন ৪৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। তরুণদের একাংশের কাছে তাঁর প্রতি সমর্থন চরম ডানপন্থার বিরোধিতা এবং মধ্যপন্থি রাজনীতির প্রতি হতাশার প্রতিফলন।
অন্যদিকে, চরম ডানপন্থি নেত্রী মারিন লো পেন ও তাঁর ন্যাশনাল র্যালি দল বিক্ষোভের সহিংসতাকে আইনশৃঙ্খলা ও কর্তৃত্বের সংকট হিসেবে তুলে ধরছে। তারা সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে অভিযুক্ত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ৩২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন লো পেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাঁর দল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
মেলেশোঁর সমর্থকেরা বলছেন, প্রচলিত মধ্যপন্থি নীতির বিকল্প প্রয়োজন। অন্যদিকে, লো পেনের শিবির অস্থিরতাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থানের মাঝখানে চাপে রয়েছে ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট।
ম্যাক্রোঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ও শেষপর্ব—দুই সময়েই বড় সামাজিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর শাসনামলের শুরুতে জ্বালানি করবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন পরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিজাতদের প্রতি ক্ষোভের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমান বিক্ষোভেও একই ধরনের অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তবে এবার সংকট মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক সুযোগ সীমিত। গত বছর ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে ভবিষ্যৎ সরকারকে জনক্ষোভ না বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এত দিন তাদের দাবি নির্বাচনী বিতর্কে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান বিক্ষোভ সেই দাবিগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবার প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে চলমান অস্থিরতা শুধু তাঁর সরকারের জন্য নয়, ফ্রান্সের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
এসএন/
