বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল হাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার পারিবারিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সততা, সাদামাটা জীবনযাপন এবং অটল রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তিনি দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানিত ছিলেন।
মরহুমের জানাজার কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা, সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হবে।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রবীণ নেতা। তার পিতার নাম মনির উদ্দিন এবং মাতার নাম জামিলা খাতুন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তার এই প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো দেশেই এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৎকালীন মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন এবং ঢাকা-৮ আসন মিলিয়ে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
