Published on
:
2 min read
সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
মাত্র ৫৯৯ টাকায় মিলছে ছবি দেওয়া প্রেস কার্ড বা সাংবাদিকের সচিত্র পরিচয়পত্র? ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অশান্তির তদন্তে নেমে এমনই বিস্ফোরক তথ্য জানতে পেরেছে দিল্লি পুলিশ! তদন্তে উঠে এসেছে, সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘কভার’ করার জন্য ১০ তারিখ দিল্লির রাস্তায় নামা অগণিত সাংবাদিকের গলায় ছিল ভুয়ো সচিত্র পরিচয়পত্র, যেগুলি বিক্রি করে মোটা টাকা রোজগার করেছে বেশ কয়েকটি প্রতারক সংস্থা৷ মাত্র ৫৯৯ টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকের ভুয়ো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে প্রচুর লোক বিভিন্ন অনামী নিউজ পোর্টাল এবং ইউটিউব চ্যানেলের নাম করে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর, মান্ডি হাউস, জনপথ, আইটিও, খান মার্কেট, কেন্দ্রীয় সচিবালয়–সহ সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন বলেই দাবি দিল্লি পুলিশের৷ তাদের আরও দাবি, এই ভুয়ো সাংবাদিকদের মূল লক্ষ্য ছিল সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে দিল্লি–সহ গোটা দেশে অরাজকতার বাতাবরণ তৈরি করা। তবে, লুটিয়েন্স দিল্লির অধিকাংশ জায়গায় সে দিন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এই ‘ভুয়ো’ সাংবাদিকরা তাঁদের অভিষ্ট সিদ্ধি করতে পারেননি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ৷ কে বা কারা ৫৯৯ টাকার বিনিময়ে প্রেস কার্ড ছাপিয়ে বিক্রি করেছেন, তাঁদের পরিচয় জানতে চলছে তদন্ত৷
১০ অক্টোবর সিজেপির যন্তর মন্তর কর্মসূচির দিন লুটিয়েন্স দিল্লির বিভিন্ন অংশে যে ভাবে ‘অতি সক্রিয়’ দেখা গিয়েছে অগণিত সাংবাদিককে, তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েছিল দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের৷ এক আধিকারিকের কথায়, ‘এর আগেও আমরা বড় জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখেছি, কখনও এত সাংবাদিককে একত্রিত হতে দেখা যায়নি৷ ১০ অক্টোবর দিল্লির রাস্তায় এমন বহু তথাকথিত সাংবাদিককে দেখা গিয়েছে, যাঁরা এর আগে কোনও দিন হয়তো কোনও ঘটনা ‘কভার’ করেননি৷ তাঁদের আচার আচরণই সে কথা প্রমাণ করেছে৷ পুলিশের সামান্য জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অনেকেই নিজের সংস্থার নামটাও ঠিকমতো বলতে পারেননি৷’ এই সব সাংবাদিকদের যন্তর মন্তরে পাঠানোর নেপথ্যে কি রয়েছে কোনও ষড়যন্ত্র? চলছে তদন্ত।
এর মধ্যেই সিজেপি–র সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠন (আইসা)–এর নেত্রী নেহা বোরা। বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের তরফে রুজু করা পিস বন্ড বা শান্তি মুচলেকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে নেহা দাবি করেছেন, কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেননি৷ দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকায় তিনি নিজে আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন৷ এই প্রসঙ্গেই নেহার দাবি, ‘স্বাধীন দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গেলে কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেওয়াও কোনও অন্যায় নয়৷’
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের জেরায় হাজিরা দেননি সদ্য তিহাড় থেকে মুক্তি পাওয়া সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শিন্ডে৷ যন্তর মন্তর–সহ দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে সিজেপি যে ভাবে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে বার বার, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে— তার পিছনে মূল উদ্দেশ্য কী? জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। এই মর্মেই তলব করা হয়েছে আশুতোষ, সৌরভ এবং অজিঙ্ককে৷
