দুই পুজোয় থিমের মণ্ডপEi Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়, তমলুক: ঘরে তোলার আগেই পরম যত্নে ফলানো ধান জমিতেই পুড়ে গিয়েছিল। বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা। সেই থেকে তমলুকের উত্তর সাউতানচক এবং নন্দকুমারের বহিচবেড়িয়া গ্রামে দুর্গাপুজোর থেকেও বড় করে আয়োজন হয় লক্ষ্মীপুজোর। থিমের মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান––চার পাঁচদিন ধরে মেতে ওঠে গোটা এলাকা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পুজোর সংখ্যা। সেই সঙ্গে জাঁকজমকও। পুজোর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এসে পড়েছে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার বৈচিত্র্যে, আলোয় চলে প্রতিযোগিতা। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা চলে আসেন এই দুই গ্রামের লক্ষ্মীপুজো দেখতে। মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন পড়ে। এ বারও পুজোর আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পুজোর উদ্যোক্তারা।
উত্তর সাউতানচক গ্রামের অমর সঙ্ঘের পুজোর এ বার ৪০ বছর। তাদের থিম ‘অর্ধ জীবন’। প্রতিমার রূপ সাবেক। পুজোর বাজেট আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা বলে জানান উদ্যোক্তারা। পাঁচ দিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ক্লাব সভাপতি বলাইচাঁদ খাটুয়া বলেন, ‘এক সময়ে এই এলাকায় প্রচুর ধান ঝলসে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার পরেই ফসল বাঁচাতে শুরু হয় লক্ষ্মীপুজো।’ নন্দকুমার থানার চক বহিচবেড়িয়া এলাকায় এ বার নজর কাড়বে ‘টু হান্ড্রেড’ ক্লাবের পুজো। এ বার ২৩ বছরে পা দেওয়া এই পুজোর মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে রাজমহলের আদলে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হচ্ছে প্রতিমাও। বাজেট প্রায় সাত লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ছ’দিন ধরে চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই এলাকার ‘হট বয়’ ক্লাবের পুজো এ বার ১১ বছরে পা দিল। মণ্ডপের থিম ‘আলপনা’। পুজোর বাজেট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা বলে জানালেন ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাব সভাপতি টোটন দিন্দা বলেন, ‘ক্লাবের বেশির ভাগ সদস্যই ভিন্রাজ্যে কাজ করেন। লক্ষ্মীপুজোর জন্যই বাড়ি ফিরে আসেন। সকলে মিলে আনন্দে মেতে ওঠাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
উত্তর সাউতানচকের মুনলাইট ক্লাবের পুজো এ বার ২৯ বছরে পা দিয়েছে। থিম ‘সোনার তরী’। বাজেট প্রায় তিন লক্ষ টাকা। ক্লাবের তরফে শ্যামসুন্দর প্রধান বলেন, ‘এ বার মণ্ডপ তৈরিতে পরিবেশবান্ধব উপকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাঁশের নানা কারুকার্যে সোনার তরীর ভাবনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’ উত্তর সাউতানচক খালেশ্বর জিউ বাজার কমিটির পুজোর এ বার ২৩ বছর। মণ্ডপে ঢুকলে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন এক টুকরো রাজস্থান। বাজেট প্রায় চার লক্ষ টাকা। কমিটির সম্পাদক শুকদেব মিদ্যা বলেন, ‘আশা করছি, দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে পারব।’
