সময়ের সেরা ফুটবলারদের প্রসঙ্গ উঠলে অবধারিতভাবে আসে রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের নাম। রেকর্ডের সঙ্গে এই দুই ফরোয়ার্ডের ওঠাবসাও নিয়মিত। সেই ধারায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন অর্জনের মালিক হলেন তারা। এতে ভাঙা পড়ল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির দুটি কীর্তি।
বুধবার রাতে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের ২০২৬-২৭ মৌসুমের লিগ পর্বের ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোল করেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড। আর এএস রোমার বিপক্ষে একবার লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপ্পে। এই গোল আর ম্যাচগুলো তাদেরকে পৌঁছে দিয়েছে রেকর্ডের চূড়ায়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোল নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন হালান্ড। জোড়া গোলের পর মাত্র ৬০ ম্যাচেই ৬১ গোল হয়ে গেছে তার নামের পাশে। এতে এই প্রতিযোগিতায় দ্রুততম ৬০ গোলের কীর্তিতে স্রেফ ১ দিনের ব্যবধানে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। হালান্ডের ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে এই সংখ্যক গোল করেছেন, মেসি করেছিলেন ২৬ বছর ৮৬ দিন বয়সে।
এমবাপ্পে নেমেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম বয়সে (২৭ বছর ২৯৮ দিন) ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড দখল করেছেন তিনি। দুইয়ে নেমে যাওয়া মেসি ১০০ ম্যাচ খেলেছিলেন ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে।
তবে নতুন কীর্তি গড়লেও ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে দুজনের। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে গেছে হালান্ডের ম্যান সিটি। অন্যদিকে, এমবাপ্পের রিয়াল লিখেছে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের আরেকটি স্মরণীয় গল্প। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রোমার মাঠে শেষ ৮ মিনিটে তিনবার জাল কাঁপিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
ছন্দে থাকা এই দুই তারকা রেকর্ড গড়েছেন আরও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এমবাপে এখন এককভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার গোল মোট ৭২টি। ছয়ে নেমে গেছেন ৭১ গোল করা রাউল গঞ্জালেজ। এমবাপের চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪১ গোল), মেসি (১২৯ গোল), রবার্ত লেভানদোভস্কি (১০৯ গোল) ও করিম বেনজেমা (৯০ গোল)।
ম্যান সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন হালান্ড। তার ৬১ গোলের ৩৮টি এসেছে সিটিজেনদের হয়ে। সেজন্য লেগেছে ৪১ ম্যাচ। পেছনে পড়ে যাওয়া সার্জিও আগুয়েরো ৩৬ গোল করেছিলেন ৬৪ ম্যাচে।
