সংবাদ · সাধারণ
রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন: নদীগর্ভে ১৭ পরিবার
১৯/১০/২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে গত এক সপ্তাহেই নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ১৭টি পরিবারের ভিটেমাটি। বসতবাড়ির পাশাপাশি নদীগর্ভে চলে গেছে বিঘার পর বিঘা কাঁচা-পাকা আমন ধান, ভুট্টাখেতসহ শাকসবজি।ভাঙন এতটাই তীব্র রূপ ধারণ করেছে যে একদিকে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে, অন্যদিকে পাড়ের কাছে ঝুঁকির মুখে রোপণ করা কাঁচা-পাকা ধান কেটে দ্রুত সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। এমন বিপজ্জনক অবস্থায় নদী থেকে ধান কেটে আনার দৃশ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরেই এই একই এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ৬-৭ মাস আগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও সঠিক তদারকি ও স্থায়ী ব্যবস্থার অভাবে সেগুলোও এখন নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নদীর পাড় কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত ভেঙে পড়ছে।চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (সুখেরবাতি এলাকা) ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে তার নিজস্ব ওয়ার্ডে ৭টি এবং পার্শ্ববর্তী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রূপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান, লালু শেখ, কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, হাতেম, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী ও আক্কাস আলীর পরিবার। এ ছাড়া চরে নতুন বাড়ি করা আরও দুজনের বসতভিটাও নদীতে তলিয়ে গেছে।বসতবাড়ির পাশাপাশি নদী ভাঙনের গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জমসের আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাগো বাড়িভিটাসহ ৩ বিঘা জমি নদীতে গেছে। অহন আমি কি করুম! ধারদেনা করি মানুষের জমিতে ঘর উঠাইছি। সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহযোগিতা করে নাই।’চর শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান জানান, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর এলাকায় ব্লকের কাজ না করায় কেবল জিও ব্যাগ দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। জিও ব্যাগগুলো নদীতে তলিয়ে নদী উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ফলে দ্রুত আবাদি জমি ও বসতবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে।এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জরুরি কাজের জন্য এই মুহূর্তে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗