মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কাচারিঘাট, মুক্তারপুর ব্রিজ ও সিপাহীপাড়া এলাকায় যানবাহনের বিকট হর্নে শব্দদূষণ বেড়ে পথচারী ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে; এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহনের স্টেশনে শব্দদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাচারিঘাট, মুক্তারপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও সিপাহীপাড়া মোড়ে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও মিশুকের বিকট শব্দ এবং অপ্রয়োজনীয় হর্নে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব এলাকায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। যানজটের সময় অনেক চালক অপ্রয়োজনে বারবার হর্ন বাজান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পথচারী, যাত্রী, দোকানি ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরিস্থিতি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তারপুর ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও সিপাহীপাড়া মোড় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় এসব এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত হর্ন ও বিকট শব্দ যুক্ত হয়ে পরিবেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে অবস্থান করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে। এ বিধিমালার আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহনের স্টেশনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ হর্নের ব্যবহার বন্ধ এবং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বার্থে কাচারিঘাট, মুক্তারপুর ব্রিজ ও সিপাহীপাড়া এলাকায় শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখে ব্যবস্থা নেব।”
