সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবারের পতাকা সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভস্থলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করায় দলটির দুই নেতাকে আটক করে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের সমর্থনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। আজ কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচির কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে এ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।
তরুণদের নেতৃত্বাধীন সিজেপি, বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেয়ার অভিযোগ তুলে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবারের পতাকা সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভস্থলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করায় দলটির দুই নেতাকে আটক করে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের সমর্থনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, দিল্লির ব্যস্ত কনট প্লেস এলাকার সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও উত্তোলনের জন্য সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি ও বামপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো।
তবে দিল্লি পুলিশ এ ধরনের সমাবেশে অংশ না নিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল রাতে নগর কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক কারণে দুই দিনের জন্য পার্কটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, উপযুক্ত কোনো স্থানে সীমিতসংখ্যক মানুষকে জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে।
সমাবেশের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়ে কর্মসূচি ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। এর আগে সপ্তাহান্তে একই ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা নিরাপত্তা অভিযানের কারণে ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তারা।
মোদির ১২ বছরের শাসনামলে তার দল বিজেপির সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ’ আন্দোলন। চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্দোলনকারীদের কয়েক সপ্তাহের অবস্থান কর্মসূচির মুখে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকার পরিবর্তন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমারের দুই ডেপুটি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
