চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গৃহবধূ সিফাতুন নুর মীমের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাঁর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় মীমের স্বামী ও দুই ননদকেও আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মীমের বাবা মোহাম্মদ নুরের অভিযোগের ভিত্তিতে পটিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিজিয়া বেগম মামলার এক নম্বর আসামি। অন্য আসামিরা হলেন মীমের স্বামী মোহাম্মদ তারেক (২৬) এবং দুই ননদ সুমি আক্তার (৩৮) ও রাশেদা বেগম (৪৩)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে তারেকের সঙ্গে মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর তারেক বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মীমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মীমের মা জহিনুর আক্তার বিভিন্ন ধরনের নাস্তা তৈরি করে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। নাস্তা কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রিজিয়া বেগম ও দুই ননদ তাঁকে গালিগালাজ ও অপমান করেন। এ নিয়ে মীম ও তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তিনজন মীমকে মারধর করেন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মীম বিষয়টি মুঠোফোনে স্বামী তারেককে জানালে তিনিও তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং আত্মহত্যা করতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ খাঁর বাড়িতে নিজের শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মীম। পরে শাশুড়ি ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মামলা দায়েরের আগে রিজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীমের বাবার এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
