পার্বত্য কন্যার বন্দনায় মেতে ওঠে চরাচর। উৎসবের মরশুমে বঙ্গজুড়ে যখন ঢাকের কাঠি, তখন সতীর অলৌকিক মহিমায় ভাস্বর তমলুকের সুপ্রাচীন বর্গভীমা মন্দির। ওড়িশি ‘রেখা দেউল’ স্থাপত্যের নিপুণ নিদর্শন এই ধামে শিব ও শক্তির চিরন্তন মেলবন্ধন দেখায় ভৈরবের পাশে অধিষ্ঠিত কৃষ্ণবর্ণা দেবীমূর্তি। বলা হয়, ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—এই চার বর্গ দান করেন বলেই তিনি বর্গভীমা।
তমলুকের জাগ্রত এই সতীপীঠকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত লোককথা। জনশ্রুতি, মহাভারতের সময়ে তমলুকের ময়ূর বংশীয় রাজা তাম্রধ্বজের আদেশে এক দরিদ্র জেলেনি রোজ একটি করে জ্যান্ত শোলমাছ দিয়ে যেতেন রাজবাড়িতে। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা—সারাবছর কীভাবে রোজ জ্যান্ত মাছ আসে, তা নিয়ে রাজার সন্দেহ জাগে। রাজা চেপে ধরতেই জেলেনি গোপন কথা ফাঁস করে দেন। তিনি জানান, জঙ্গলে ঘেরা একটি গোপন পুকুরের জল ছিটিয়েই তিনি মরা শোল মাছকে জ্যান্ত করে রাজবাড়িতে নিয়ে যেতেন। জেলেনীর কথামতো রাজা সেই এলাকায় গিয়ে দেবী বর্গভীমার উগ্র মূর্তি দেখতে পান। এরপর সেখানেই তিনি মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা হয় তীক্ষ্ণ ভক্তির এই পীঠস্থান। সেই অলৌকিক স্মৃতি বহন করে আজও দেবীর পঞ্চব্যঞ্জন অন্নভোগে শোলমাছের ঝোল ও টক থাকা বাধ্যতামূলক।
তবে দেবীর অন্নভোগের এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে নিষ্ঠা ও শুদ্ধতার অন্বেষণই শেষ কথা। ভক্তির পাত্রে চালের গুণমান ও শুদ্ধাচার যখন মিলিত হয়, তখনই পূর্ণতা পায় পুজো। আর সেই অনন্য ভরসার নাম ‘লালবাবা রাইস’। বিগত ৬০ বছর ধরে বাংলার প্রতিটি গৃহস্থের ভোজনালয় থেকে শুরু করে মন্দিরের পবিত্র নৈবেদ্য—উৎকৃষ্ট স্বাদের ও নিষ্কলঙ্ক চালের ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছে এই নাম।
তবে দেবীর অন্নভোগের এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে নিষ্ঠা ও শুদ্ধতার অন্বেষণই শেষ কথা। ভক্তির পাত্রে চালের গুণমান ও শুদ্ধাচার যখন মিলিত হয়, তখনই পূর্ণতা পায় পুজো। আর সেই অনন্য ভরসার নাম ‘লালবাবা রাইস’। বিগত ৬০ বছর ধরে বাংলার প্রতিটি গৃহস্থের ভোজনালয় থেকে শুরু করে মন্দিরের পবিত্র নৈবেদ্য—উৎকৃষ্ট স্বাদের ও নিষ্কলঙ্ক চালের ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছে এই নাম।
শরতের মহাপুজোয় মায়ের চরণে নিবেদিত অন্নভোগ হোক কিংবা পরিবারের উৎসবের প্রসাদ, উপকরণের শুদ্ধতায় কোনও আপস চলে না। চালের প্রতিদান যেখানে শুধু আহার নয়, বরং ভক্তির পবিত্র নৈবেদ্য, সেখানে নিশ্চিন্ত বিশ্বাস জোগায় লালবাবা রাইস। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক শুদ্ধতার সমন্বয়ে এই পুজোয় আপনার ভক্তির অর্ঘ্যকে আরও পূর্ণাঙ্গ করে তুলুক লালবাবা চাল।