সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘Enhancing Clean Energy Access through Rooftop Solar PV in Public Infrastructure’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে জানানো হয়, কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের বিস্তারিতও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।
রাজউকের এসব প্লট বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কাজ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথিসংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি, এম মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি, মো. রুহুল আমিন এমপি এবং মো. তাজউদ্দীন খান এমপি।
এ ছাড়া বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
