আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং ও ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান দলের অধিনায়ক রহমত শাহর সেঞ্চুরির প্রভাব ম্লান করে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড আদায় করে নেয় টাইগাররা। হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাট্রিকের সুবাদে আফগানদের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত গুটিয়ে যায়। এরপর মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ়তাপূর্ণ ১৫৯ রানের পার্টনারশিপে লিড তিনশ রানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
দিনের শুরুতে ২১১১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান দ্রুতই বিপদে পড়ে। ইবাদত হোসেনের বলে ১০২ বল খেলা ইব্রাহিম আলিখিল আউট হন। এরপরই বল হাতে তাণ্ডব চালান হাসান মাহমুদ। ইসমত আলমের স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়ার পর টানা দুই বলে আরও দুই উইকেট শিকার করে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। অপরপ্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যাওয়া রহমত শাহ অসাধারণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিলেও আফগানিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ২৪০ রানে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেটের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান মাহমুদ।
বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা আগ্রাসী করেছিল বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের এক ওভারে চারটি চার হাঁকান তানজিদ হাসান তামিম। তবে মোহাম্মদ সাফির শর্ট বলে শাদমান ইসলাম এবং আহমেদজাইয়ের সুইংয়ে মুমিনুল হক আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে দল। লাঞ্চের আগে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে থিতু হয়ে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়েন। চরম গরমের মধ্যে স্পিন আক্রমণ মোকাবিলা করে এই জুটি স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। শান্ত ১৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং দলের রান বাড়াতে থাকেন।
দিনের শেষভাগে এসে অবশ্য কিছু সাফল্য পায় আফগানিস্তান। লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৮১ রান করে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। কায়েস আহমদের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ৮২ রান করে বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর নাইটওয়াচম্যান হাসান মাহমুদও দ্রুত আউট হন। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশ ৩২৯ রানের বিশাল লিড অর্জন করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ২২৩/৬ (নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১; ইয়ামিন আহমেদজাই ২-৪২, কায়েস আহমদ ১-৩৬)। আফগানিস্তান: ২৪০ (রহমত শাহ ১০১, আব্দুল মালিক ৬২; হাসান মাহমুদ ৫-৫৫, ইবাদত হোসেন ৪-৫৬)।
