পটুয়াখালীর দুমকিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর। একই সময়ে কর্মঘণ্টা বাদ দিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হকের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মীসহ স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা অংশ নেন। এতে ডা. শাহীনকে মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক উল্লেখ করে অবিলম্বে তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। এদিকে, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াসীমের নেতৃত্বে স্থানীয়দের অপর একটি পক্ষ ওই কর্মসূচির বিরোধিতা করে মাঠে নামে। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ডা. শাহীনের নেতৃত্বে হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তারা অবিলম্বে সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখার জোর দাবি জানান। প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ তোলেন, হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে কর্মঘণ্টা বাদ দিয়ে তাদের একর্মসূচির ফলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তার বদলি ঠেকাতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের অতিরিক্ত তৎপরতার পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
অপরদিকে, একই কর্মকর্তার বদলি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাগবিত-ায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পক্ষ বদলি প্রত্যাহারকে জনস্বার্থের দাবি হিসেবে তুলে ধরলেও অপর পক্ষ হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি বদলির আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানায়। তবে হাসপাতাল কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে তোলা কিংবা কর্মঘণ্টার সময় চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
