লা লিগায় চার ম্যাচের বড় নিষেধাজ্ঞা আর এএস রোমার বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানের নাটকীয় জয়। সব মিলিয়ে সময়টা বেশ জটিল যাচ্ছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। এর মাঝেই নিজের ওপর আসা নিষেধাজ্ঞা এবং ম্যাচ চলাকালে তুলে নেওয়ায় সৃষ্ট ক্ষোভ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
চলতি মৌসুমে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও গত উইকেন্ডে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে জাল খুঁজে পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু ভিএআর (VAR) চেকের পর সেই গোল বাতিল হয় এবং উল্টো ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার নাথান সালিবার চুল টানার অভিযোগে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
সিদ্ধান্তটি মানতে না পেরে মাঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস, একপর্যায়ে রেফারির দিকে তেড়েও যান তিনি। সতীর্থ আন্তোনিও রুডিগার মাঝপথে না থামাল পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারত। শেষ পর্যন্ত সালিবার চুল টানার জন্য ২ ম্যাচ এবং রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝাড়ার জন্য আরও ২ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তাকে। ফলে আসন্ন বহুল আলোচিত ‘এল ক্লাসিকো’তেও মাঠে নামা হচ্ছে না তার।
রোমার বিরুদ্ধে জয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, আমার মনে হয় শাস্তির সময়টা মোটেও সঠিক হয়নি। সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তাদের পুরো দিন পড়েছিল, অথচ আমি স্টেডিয়ামে আসার পর তা জানতে পারি। এটি একটি নতুন নিয়ম, আর লা লিগার কর্তারা সাধারণত নতুন কোনো পরিবর্তন আসলে আমাদের এসে বুঝিয়ে দেন, কিন্তু এবার তা করেননি।
মাঠের ঘটনাটি নিয়ে রিয়াল তারকা বলেন, আমি ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ফুটবলারের প্রতি আক্রমণাত্মক বা সহিংস আচরণ করিনি। অথচ আমাকে প্রায়ই ফাউল করা হয় এবং সামান্য নিয়ম ভাঙলেই আমাকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।
রোমার বিপক্ষে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা সইতে হয়েছে তাকে। প্রথমার্ধের পর কোচ হোসে মরিনহো তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান তরুণ এন্ড্রিক। শেষ পর্যন্ত অলিম্পিকোর মাঠে এন্ড্রিক হয়ে ওঠেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক।
বদলি হওয়া নিয়ে নিজের রাগ প্রসঙ্গে ভিনিসিউস বলেন, মাঠ থেকে তুলে নিলে রাগ হওয়া স্বাভাবিক, কারণ আমি সবসময় সেরাটা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে চাই। তবে বদলি ফুটবলাররাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে। এন্ড্রিক এসে গেমের গতি পরিবর্তন করেছে এবং সেই ছিল সেরা খেলোয়াড়। এছাড়া কার্লোস (এস্পি) অল্প সময়ের জন্য নেমেও গোল করেছে।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি আরও যোগ করেন, নিজের ওপর রাগ হচ্ছে যে আমি সেরা ছন্দে ছিলাম না। তবে দিনশেষে ভিনি ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায় এবং এবারও ঘুরে দাঁড়াব। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকদের একাংশের দুয়ো ধ্বনি নিয়েও কথা বলেন এই উইঙ্গার, সমর্থকদের দুয়ো কোনো কাজে আসে না, তবে তারা টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসেন, তাই মন্তব্য করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ভক্তরা পাশে থাকলে আমরা ভালো খেলি। তখন বেলিংহাম ভালো খেলে, এমবাপ্পে ভালো খেলে, আমিও ভালো খেলি। আমি দলের অন্যতম অধিনায়ক এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি বলেই হয়তো আমাকে দুয়ো দেওয়াটা সহজ।
রিয়াল সমর্থকদের আশ্বস্ত করে ২৬ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, আমি অবশ্যই আগের রূপে ফিরব। যখন খুব কম বয়সে এখানে এসেছিলাম, অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দিনশেষে এই রিয়ালের হয়েই আমি একশর বেশি গোল করেছি।
উল্লেখ্য, রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৩৮৫টি ম্যাচ খেলে ১২৯টি গোল এবং ১০৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
