পুজো কাটতেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়ে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরেই জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূল ও অবশ্য বাম এবং কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে আসন্ন পুরভোটেই জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে চাইছে। উলটোদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার ২০৯টি ও হাওড়ার ৬৮টি ওয়ার্ডে পুরভোটে একাই প্রার্থী দিতে চাইছে। অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী ১৩৭কাউন্সিলরের একাংশ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়ে পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিন এনসিপিআই সাংসদ মারফত যোগাযোগ করছেন বলে সূত্রের খবর। তবে দুই শিবিরই আপাতত প্রার্থীর চেয়ে দলের নাম ও প্রতীক দখল নিয়ে লড়াইয়ে নেমে সুপ্রিম কোর্টে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অনেক বেশি সংখ্যায় হলফনামার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
সূত্রের খবর, দু’পক্ষই পেশাদার লোক নামিয়ে নির্দিষ্ট অফিস ঘরে বসে বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার তালিকা ধরে ধরে কর্মীপিছু চার পাতার হলফনামা পূরণ করছে। কারণ, এই হলফনামা বেশি সংখ্যায় জমা করে কালীঘাট-তৃণমূল ও ঋত তৃণমূল দু’পক্ষই দেখাতে চাইছে, তাদের সঙ্গেই রাজ্যের বেশি সংখ্যায় দলীয় কর্মী এবং সদস্য রয়েছেন। যদিও কালীঘাটের কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, পুলিশ দিয়ে নাকি ঋতব্রত শিবির হলফনামা পূরণ করছে।
এদিকে বিজয়া দশমীর পর শুক্রবারও দলে দলে জেলা থেকেও বহু কর্মী কালীঘাটে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কিন্তু আগের দিনের মতো এদিনও মমতা কারও কাছ থেকেই মিষ্টি নেননি। বলেছেন, দলের বহু নেতা ও কর্মী মিথ্যা মামলায় জেলে আছেন, ঘরছাড়া অনেকেই। এমন অবস্থায় তিনি মিষ্টি নেবেন না। নতুন প্রজন্মের নেতা ও নেত্রীদের সঙ্গে এদিন অনেকেই সেলফি তুলে পুরভোট নিয়ে আলোচনা সেরে কালীঘাট থেকে বাড়ি ফিরেছেন কর্মীরা
অন্যদিকে বাইপাসের মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আখরুজ্জামান না এলেও ছিলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। সবাই হলফনামা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি নিয়ে খবর নেন। কথা হয় পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে। দলের কলকাতার কিছু বিদায়ী কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন বলে যে জল্পনা তা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাত্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পুরভোট করার প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে ফিরহাদ বলেন, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস একাই ২০৯টি আসনে লড়বে।
অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষরা যে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে জোট করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে বিজেপির হিংসার ইস্যু তুলে লোকসভা ভোটে জোট চায় প্রদেশ কংগ্রেস। ২০২৯ সালে লোকসভা ভোটে জোটের পক্ষে সওয়াল করে শুভঙ্কর বলেন, “পুরভোটে জোট করলেও রাজ্য পুলিশ সামনে রেখে মেরে ধরে সব সিট জিতবে। পাড়ার বিজেপি কর্মীরা নিজেদের রুটিরুজির স্বার্থে পুরভোটের সব ওয়ার্ডে গায়ের জোরে দখল করে নেবে। তখন জোট করলেও বলবে, তিন পার্টি একসঙ্গে এসেও জিততে পারল না। সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাই এখন বাংলায় বিজেপির সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল একসঙ্গে লড়াই করে আগামী পার্লামেন্ট ভোটে জোট করে লড়াই করলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচনে সুফল পাওয়া যাবে।” দিল্লিতে ইন্ডিয়া মঞ্চে একসঙ্গে থাকলেও বামেরা আসন্ন পুরভোট নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যে জোট করতে চাইছে না, সে কথা ইতিমধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে আলিমুদ্দিন।
