ব্যানারের নিচে বড় করে লেখা ‘রোমা, রোমা লো ওনোরেইরা’। ইতালিয়ান ভাষায় লিখা এই শব্দগুলোর বঙ্গানুবাদ ‘রোমা, রোমা তাকে সম্মান করবে’। রোমার ক্লাব সংগীত রোমা, রোমার আদলে লিখা হয়েছে লিখাটি। ঘরের মাঠ অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে এমন ব্যানারের মাধ্যমে তাদের প্রিয় কোচ হোসে মরিনহোকে সম্মান জানিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার সমর্থকরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ শুরুর আগেই দেখা যায় মরিনহোর প্রতি রোমা সমর্থকদের ভালোবাসা। এক সময়ের প্রিয় কোচের নাম ঘোষণার সাথে সাথেই পুরো স্টেডিয়াম মেতে ওঠে করতালিতে।
ম্যাচ শুরুর পরপরই স্টেডিয়ামের 'আল্ট্রা' (রোমার কট্টর সমর্থক) গ্যালারিতে মরিনহোর ছবি দিয়ে তিনটি বিশালাকার ব্যানার উন্মোচন করা হয়। একটি ব্যানারে দেখা যায়, ২০২২ সালে রোমাকে কনফারেন্স লিগ জেতানোর পর ট্রফি হাতে মরিনহোর ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তটি। উল্লেখ্য, এই কনফারেন্স লিগটিই ছিল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রোমার প্রথম বড় কোনো ট্রফি।
পরের বছর রোমাকে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হুট করেই ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
প্রিয় কোচকে বরণ করে নিতে সমর্থকদের আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে রোমকে গৌরব এনে দেয়, রোম তাকে চিরকাল সম্মানিত করে। সাধারণ মানুষ আপনাকে অমর গৌরব দান করেছে।’
সাবেক শিষ্য ও সমর্থকদের এমন উষ্ণ অভ্যর্থনায় আবেগাপ্লুত মরিনহো বলেন, এই ভালোবাসা তাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
রোমা সমর্থকদের কাছে সংবর্ধনা পাওয়ার পর ম্যাচটিতেও শেষ মুহূর্তের জাদুতে জয়ের হাসি হেসেছে মরিনহোর বর্তমান দল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ম্যাচের একবারে শেষ ১০ মিনিটে হয়েছে আসল খেলা। পর পর তিনটি কর্নার কিক থেকে গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে রোমার কাছ থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নেয় রিয়াল।
সমর্থকদের এমন ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর কোনো উদযাপন করেননি মরিনহো। কার্লোস এস্পি, এনদ্রিক এবং আন্তোনিও রুডিগারের শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচটি যখন ৩-১ থেকে ৪-৩ হয়ে যায়, তখনও তিনি ছিলেন শান্ত।
ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, আজকে যেন একই ম্যাচের মধ্যে দুটি আলাদা খেলা দেখলাম। শুরুর দিকে রোমাই সবদিক থেকে সেরা ফুটবল খেলেছে। যখন স্কোরলাইন ৩-১ হলো, সবাই ভেবেছিল ম্যাচ শেষ। কিন্তু সত্যি বলতে, রোমার খেলোয়াড়রাই তখন হাঁপিয়ে উঠেছিল।
