এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়েছে পাঁচ মেয়ে। শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাদের সামনে দেখা দিয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে তাদের খোঁজখবর নিতে এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিতে তাদের বাড়িতে গেছেন ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শিলা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে মা-বাবাহারা পাঁচ কন্যার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় শিশুদের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ ও যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এ নেত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় ওদের খোঁজখবর রাখব। যেকোনো সমস্যায় পড়লে সবার আগে আমাকে জানাবে।’
এ সময় পাঁচ কন্যার দাদা-দাদিকে তাদের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ জানান শামীমা। পাশাপাশি পরিবারের যেকোনো সমস্যায় তাকে জানানোর কথাও বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। আমাদের সবার উচিত, এই অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দেখে-শুনে রাখা।’
এ সময় নিহত দম্পতির মেয়ে তানিয়া (১৩) বলে, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী, এমপি মহোদয় ও শামীমা আপাকে ধন্যবাদ। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। না হলে আমরা পাঁচ বোন দিশাহারা হয়ে যেতাম।’
পাঁচ কন্যার দাদা ও নিহত আবুল কালাম আজাদের বাবা ওহাব মাদবরও ছেলেকে ও পুত্রবধূকে হারানোর বেদনা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে পাঁচ নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা- সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে পরিবারটি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট রাধানগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ফরিদা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ৩১ দিন পর, ২৯ সেপ্টেম্বর, তার স্বামী কৃষক আবুল কালাম আজাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে পাঁচ কন্যা এখন দাদা-দাদির আশ্রয়ে রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।
