তৈরি পোশাক খাতের জন্য ‘ইসিজি প্ল্যাটফর্মের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক শিল্পে এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভার্নেন্স (ইসিজি) কমপ্লায়েন্স এবং নতুন বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে এই প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে ইসিজি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির রিসার্চ পরিচালক প্রফেসর মুন্সি সোলায়মান এবং ম্যাপড ইন বাংলাদেশের টেকনিক্যাল লিড প্রফেসর মতিন আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক নাফিস উদ দৌলাসহ বিজিএমইএর অন্যান্য নেতা ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত আট মাসে সরকার জ্বালানি খাতে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি প্রদান করেছে।
বিগত সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে উল্লেখ করে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং শিক্ষিত যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অভাব—এই তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।
উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে একটি সক্ষম ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব রূপকল্প ও সংস্কার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা উন্নয়ন সহযোগীরাও প্রত্যক্ষ করছে।
বিজিএমইএর নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ অসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত চাহিদা এবং টেকসই পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের কারখানাগুলোকে আরও বেশি কমপ্লায়েন্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া এই ইসিজি প্ল্যাটফর্মের আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন সংক্রান্ত কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর ইসিজি প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্যোগ গ্রহণকারী ও পরিচালক শেখ হোসাইন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পকে কেবল ‘কমপ্লায়েন্স’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে হবে। ৩২৬টি কারখানার ডেটা নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি শিল্পখাতের স্বচ্ছতা ও টেকসই অর্জনে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার এজেন্ডার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের জন্য জাতীয় ঐক্য, পুনর্গঠন ও উত্তরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্র রয়েছে পোশাক শিল্প। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে গতানুগতিক কমপ্লায়েন্স থেকে বেরিয়ে সাসটেইনেবিলিটিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী রপ্তানি ভিত্তি অপরিহার্য এবং ‘ইসিজি ডেটা টু অ্যাকশন’ দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জনে সহায়তা করবে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডি এর রিসার্চ পরিচালক প্রফেসর মুন্সি সোলায়মান তার বক্তব্যে বিজিএমইএর সদস্যভূক্ত সব কারখানাকে এই ইসিজি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শেখ সুচিতা জাহান স্নেহা, প্রধান সমন্বয়কারী, রেসপনসিবল বিজনেস হাব ও বিজিএমইএ সেন্টার অব এক্সিলেন্স।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: বিজিএমইএ
০৪ অক্টোবর ২০২৬
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
