ঢাকার ব্যস্ত সড়ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী শিশু। কেউ ফুল বিক্রি করে, কেউ বোতল ও কাগজ কুড়ায়, কেউ যানবাহনে থাকা মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি করে। আবার কোনো শিশু হোটেল বা ছোট দোকানে কাজ করে। তাদের সবার জীবনের শুরুটাই যেন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। যাদের নেই কোনো পরিবার, নেই থাকার মত কোনো ঠাঁই।
এমনই একজন শিশু রাতুল, বয়স মাত্র ৮। রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান, সংসদ ভবন এলাকায় প্রতিদিন তাকে দেখা যায় ফুল বিক্রি করতে। রাতুল একা নয়, তার সাথে তার মাও ফুল বিক্রি করে। এই এলাকাজুড়ে আরও বেশ কয়েকজন শিশু একই কা করেন। রাতুল আমাদের জানান, তার বাবা কে জানে না সে। সারাদিন ফুল বিক্রি করে রাতে ফুটপাতেই ঘুমাই রাতুল আর তার মা।
রাতুলের মা জানান, রাতুল ছোট থাকতেই তার বাবা চলে গেছে। একা নারী হয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে রাতুলকে মানুষ করছে তার মা। রাতুলের মত অসংখ্য শিশু আছে এই ঢাকা শহরে, যাদের নেই শিক্ষার কোন ব্যবস্থা, না আছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা।
রাতুলের মত এসব শিশুদের বাস্তবতা দেশের বৃহত্তর শিশু অধিকার পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, শিক্ষায় বৈষম্য এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে শিশুরা নানা ধরনের ঝুঁকিতে পড়েন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর? যারা পরিবার বা নিয়মিত আশ্রয়ের বাইরে বসবাস করছে, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করা হচ্ছে? কিই বা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
ফুটপাতেই দিন শুরু, সেখানেই শেষ
ঢাকার পথশিশুদের জীবন বুঝতে হলে দেখতে হবে, দিনের বেশির ভাগ সময় তারা কোথায় কাটায়, কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করে এবং কোথায় ঘুমায়। কোনো শিশু পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় থাকে, কেউ জীবিকার প্রয়োজনে দিনের বেলায় বাইরে আসে, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
পথে থাকা সব শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে নয়, আবার রাস্তায় কাজ করা সব শিশুর স্থায়ী বাসস্থানও ফুটপাত নয়। তাই তাদের বাস্তব অবস্থা বুঝতে শিশুদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের পারিবারিক পরিস্থিতি জানা, সংগ্রামের বাস্তব চিত্র জানা।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট, গুলিস্তান ও বিভিন্ন বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, শতশত শিশু রাস্তায় দিন কাটাচ্ছে।
কেন রাস্তায় থাকতে হচ্ছে শিশুদের?
শিশুদের রাস্তায় থাকা বা কাজে যুক্ত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পরিবারের দারিদ্র্য, বাসস্থান হারানো, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, অভিভাবকের অসুস্থতা বা মৃত্যু এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব কোনো কোনো শিশুকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে সব পথশিশুর অভিজ্ঞতা এক নয়। কোনো শিশু পরিবারের আয়ের জন্য কাজ করে, কোনো শিশু পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় বসবাস করে, আবার কারও ক্ষেত্রে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার জন্য এমন বাস্তবতায়। তাই প্রত্যেক শিশুর জন্য একই ধরনের সমাধান কার্যকর হবে না।
শিশুদের সহায়তা দিতে হলে প্রথমে তাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। যেসব শিশু পরিবারে নিরাপদে ফিরতে পারে, তাদের পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি। আর যেসব শিশুর পরিবারে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়, তাদের জন্য বিকল্প সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ কতটা?
ঢাকার বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়। তাদের কেউ দোকানে, কেউ হোটেলে, কেউ পরিবহনসংশ্লিষ্ট কাজে কিংবা বর্জ্য সংগ্রহে যুক্ত থাকতে পারে। এসব কাজের সবগুলো সমান ধরনের নয়; শিশুর বয়স, কাজের প্রকৃতি, কর্মঘণ্টা এবং পরিবেশের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত শিশুর ক্ষেত্রে আঘাত, শোষণ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং শিক্ষার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা থাকে। কিন্তু কাজ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। শিশুটি কেন কাজে যুক্ত হয়েছে, তার পরিবারের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং পড়াশোনায় ফেরার বাস্তব সুযোগ আছে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যেসব শিশু কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করতে চায়, তাদের জন্য কী ধরনের শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা রয়েছে? আর যারা দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে, তাদের মূলধারার শিক্ষা বা বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কতটা কার্যকর?
এ প্রশ্নের উত্তরে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা এডুকো বাংলাদেশ বলছে,শিশুশ্রমে যুক্ত বা অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিশুদের শিক্ষায় ধরে রাখতে কয়েক ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:
নমনীয় সময়সূচিতে শিক্ষা: কর্মজীবী শিশুদের উপযোগী সময়ে ক্লাস, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাঠদানের সুযোগ।
শেখার ঘাটতি পূরণ: দীর্ঘদিন নিয়মিত পড়াশোনা করতে না পারা শিশুদের জন্য প্রাথমিক সাক্ষরতা, গণিত ও শ্রেণিভিত্তিক শিখন-সহায়তা।
আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা: দরিদ্র পরিবারের শিক্ষাব্যয় কমানো, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং পরিবারকে শিশুর শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা।
শিশুর সুরক্ষা: ঝুঁকিপূর্ণ ও শোষণমূলক শ্রম থেকে শিশুদের রক্ষা করা এবং তাদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
পরিবার ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা: অভিভাবক, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও শিশু অধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাজের সঙ্গে শিক্ষা সমন্বয়ের উদ্যোগ যেন শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে আটকে না রাখে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়?এ ধরনের শিশুদের জন্য সাধারণত দুটি পথ বিবেচনা করা হয়।
মূলধারার শিক্ষায় পুনঃভর্তি: শিশুর বয়স, পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শেখার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত শ্রেণিতে ভর্তি, অতিরিক্ত পাঠদান এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
বিকল্প ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা: যারা বয়স, কাজের চাপ, দারিদ্র্য বা অন্যান্য কারণে প্রচলিত বিদ্যালয়ে ফিরতে সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য নমনীয় সময়সূচি, দ্রুত শিখন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।
ঢাকার বাইরে চিত্রও উদ্বেগের
শিশুদের ঝুঁকি শুধু রাজধানীর রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দারিদ্র্য, শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের বাধা, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সহিংসতা এবং দুর্যোগের কারণে শিশুদের জীবন ও বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এসব সমস্যার ধরন ও মাত্রা অঞ্চলভেদে আলাদা।
গ্রামাঞ্চলে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশু কাজে যুক্ত হতে পারে। কোথাও বাল্যবিয়ে মেয়েশিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত করে, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের দূরত্ব, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব কিংবা শিক্ষার ব্যয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
শহর ও গ্রামের শিশুদের সমস্যার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছানো। শুধু কোনো শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে, তা শনাক্ত করলেই হবে না, তাকে কী ধরনের সেবা দিতে হবে এবং সেই সেবা নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে অনিশ্চিত হচ্ছে শিশুদের শৈশব
বাংলাদেশের বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। কোনো পরিবার বসতভিটা হারালে শিশুর বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দুর্যোগে জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারের আর্থিক সংকট এ পড়ছে। এতে শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার ওপর প্রভাব পড়ছে।
সহিংসতা ও অবহেলা: আড়ালে থেকে যায় অনেক ঝুঁকি
শিশুর নিরাপত্তা শুধু খাবার, বাসস্থান ও শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, পাচার এবং অনলাইন হয়রানিও শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
পথে বসবাসকারী বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুরা কিছু পরিস্থিতিতে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাই কোনো শিশুর জীবনকে শুধু তার অবস্থানের ভিত্তিতে বিচার করা ঠিক নয়। প্রতিটি শিশুর অভিজ্ঞতা আলাদা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যে সীমিত হয় সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাল্যবিয়ে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগকে সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, নিরাপদে চলাচল এবং নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ছেলেশিশুর ওপর অল্প বয়সে উপার্জনের চাপও তার শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই জেন্ডার সমতার আলোচনায় সব শিশুর প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও সুযোগকে বিবেচনায় নেয়া জরুরি।
পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এসব সমস্যা মোকাবিলা কঠিন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য শিক্ষা অব্যাহত রাখা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
সুরক্ষাব্যবস্থা আছে, পৌঁছাচ্ছে কি সবার কাছে?
ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করে। কিন্তু এসব উদ্যোগের বাস্তব কার্যকারিতা বুঝতে জানতে হবে, কতজন শিশু সেবা পাচ্ছে, কোন শিশুরা সেবার বাইরে থাকছে এবং সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে।
ঢাকার পথশিশুদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রাস্তায় বসবাসকারী বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের নিয়মিতভাবে শনাক্ত করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে।
একইভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য সেবার প্রাপ্যতা ও মান যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু কর্মসূচির সংখ্যা বা সহায়তা বিতরণের হিসাব দিয়ে সাফল্য বিচার করা যায় না। শিশুর জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন এসেছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।
তবে পথশিশু কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিতে থাকা শিশুকে শুধু সমস্যার প্রতীক হিসেবে তুলে না ধরে তার মতামত, ইচ্ছা, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আর এটা করার দায়িত্ব সরকারের এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের।
নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার
ঢাকার ফুটপাত থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদ শিশুদের ঝুঁকি ও প্রয়োজন এক নয়। কিন্তু প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে।
এই অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবারকে সহায়তা দেয়া, শিশুশ্রম ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা, শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুদের জন্য কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেয়া। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কী করছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি পূরণে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তার জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ, একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তার অধিকার। সেই অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং আমাদের সবার।তাই এসব পথশিশুদের সুন্দর শৈশবকে ফিরিয়ে দিতে আমাদের কার্যকরী ভূমিকা রাখা উচিত। তাহলেই রাতুলের মত হাজারো শিশুরা পাবে শিক্ষার সুযোগ, বেঁচে থাকার মত নীড়।
