কালবেলা · সাধারণ
ডিবি সোর্সের ভুয়া পরিচয়ে কলেজছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ
১৩/১০/২০২৬

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গোয়ালিমান্দ্রা এলাকায় ডিবি পুলিশের ভুয়া সোর্স পরিচয়ে এক স্থানীয় কলেজছাত্রীকে প্রকাশ্যে তল্লাশি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে শিমুলিয়া ভাঙ্গা হাসিনার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালিমান্দ্রার এক কলেজপড়ুয়া ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে কলেজে যাওয়ার সময় দোগাছি এলাকার মৃদুল নামের এক যুবক ভাঙা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার পথরোধ করে। সে নিজেকে পদ্মা উত্তর থানার ‘ডিবি পুলিশের সোর্স’ হিসেবে দাবি করে প্রকাশ্যে ওই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে আখ্যা দেয়। এরপর সে জোরপূর্বক এককভাবে ছাত্রীর শরীর তল্লাশি চেষ্টা শুরু করে তাকে হেনস্তা করে।
ঘটনাক্রমে, মৌছামান্দ্রার স্থানীয় একদল যুবক ঢাকা যাওয়ার পথে বিষয়টি দেখতে পান এবং এগিয়ে আসেন। তারা প্রতারক মৃদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেকে আবারও পদ্মা উত্তর থানার ডিবি পুলিশের লোক দাবি করে।
পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে কৌতূহলী জনতা ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক পদ্মা উত্তর থানা ও ডিবি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন থেকে পরিষ্কার জানানো হয়, মৃদুল নামে তাদের কোনো সোর্স নেই এবং ওই নামে তারা কাউকে চেনেন না। ভুয়া পরিচয়ে কলেজছাত্রীকে হেনস্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবককে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। গোয়ালিমান্দ্রা ও তার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এমনিতেই নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হতে হতো বাসিন্দাদের, এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনের ভুয়া পরিচয়ে হয়রানির নতুন উপদ্রব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের কিন্তু নতুন করে ‘প্রশাসনের সোর্স’ পরিচয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। দিন দিন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার বদলে অবনতি ঘটায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে গোয়ালিমান্দ্রার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ অনতিবিলম্বে জড়িত ভুয়া সোর্স মৃদুলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ‘মৃদুল নামে আমাদের কোনো সোর্স নেই। আমরা কোনো সোর্স ব্যবহার করি না।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗