একসময় তার আগ্রাসী বোলিংয়ে কেঁপেছে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটারকে ফিরিয়ে মুষ্টিবদ্ধ উদযাপন, এরপর দ্রুতই জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। ২০২৩ বিশ্বকাপেও মিলেছিল সুযোগ। অথচ সেই তানজিম সাকিবই এখন জাতীয় দলের আলোচনায় অনুপস্থিত। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নেই তার সরব উপস্থিতি। প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় হারিয়ে গেলেন সম্ভাবনাময় এই পেসার?
তানজিম অবশ্য হারিয়ে যাননি, বরং ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতিতে সময় কাটছে তার। আপাতত দেশের বাইরে ইংল্যান্ডে রয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। মাঠের লড়াইয়ে ফেরার আগে তাকে জিততে হচ্ছে আরেকটি লড়াই-চোটের সঙ্গে লড়াই!
২৩ বছর বয়সেই তিন সংস্করণে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছে তানজিমের। ১৫টি ওয়ানডে, ৪১টি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। মূলত অলরাউন্ডার হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে পেসার হিসেবে। আগ্রাসী বোলিং, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দেওয়ার দক্ষতা তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে।
কিংবদন্তি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নামের সঙ্গে নামের মিল থাকলেও নিজের পারফরম্যান্সেই পরিচিতি গড়েছেন এই ক্রিকেটার। সিলেটের এয়ারপোর্ট রোড থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। বয়সের তুলনায় দ্রুত তিন সংস্করণে জায়গা করে নেওয়াও ছিল তার সম্ভাবনার বড় প্রমাণ।
কিন্তু সেই পথচলায় আপাতত ছেদ পড়েছে চোটের কারণে। গত এপ্রিলে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার সর্বশেষ উপস্থিতি। এরপর থেকে আর মাঠে দেখা যায়নি তাকে। পিঠের চোটে দীর্ঘ সময় ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এই পেসারকে। পেসারদের জন্য পিঠের চোট নতুন কিছু না হলেও তানজিমের ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ হয়েছে।
সাকিবের পুনর্বাসনের দায়িত্বে রয়েছেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল কেন্টের কন্ডিশনিং কোচ মাইক বেন্টলি। হাসান মাহমুদ ও খালেদের কাউন্টি দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই ব্রিটিশ কোচের তত্ত্বাবধানেই চলছে তানজিমের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা। আপাতত জিমে সময় কাটছে তার। লক্ষ্য, ধাপে ধাপে শারীরিক সক্ষমতা ও বোলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ফিরিয়ে আনা।
তানজিমের পুনর্বাসন নিয়ে আশার কথাই শুনিয়েছেন বেন্টলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিমে অনুশীলনরত এই পেসারকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তানজিম সাকিবের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দারুণভাবে শুরু হয়েছে! শুধু নিজের সেরা ছন্দে ফেরার স্বপ্ন দেখলেই সেখানে ফেরা যায় না। ফিরতে হলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং প্রতিদিন ছোট ছোট চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হয়।’
বেন্টলির এই বক্তব্যে তানজিমের লড়াইয়ের ছবিটাই স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ক্রিকেট থেকে দূরে নেই তিনি। বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখতে আপাতত লড়াই করছেন ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য। পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে আবারও বল হাতে মাঠে নামাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মাঠে ফিরতে পারেন তানজিম সাকিব। তবে দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার আগে তাকে পুরোপুরি চোটমুক্ত ও ফিট হয়ে উঠতে হবে। যে তরুণ পেসারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল স্বপ্নের মতো, তার সামনে এখন নতুন পরীক্ষা। এবার প্রতিপক্ষ কোনো ব্যাটার নন, নিজের শরীরের সঙ্গে লড়াই।
তানজিমের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় তাই শুধু জাতীয় দল নয়, তার আগ্রাসী বোলিংয়ে মুগ্ধ হওয়া ক্রিকেটপ্রেমীরাও!
