ম্যারাডোনাকে চুমু খেয়ে ভাগ্য ফিরেছিল তেভেজের, আর সেই ম্যারাডোনার চুমুতেই একসময় বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর চুমু-কাণ্ডে হয়েছিল তোলপাড়! নারী সাংবাদিককে চুমু দিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন এক বক্সার। আবার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গোলের পর সতীর্থের চুমু খেয়ে পল স্কোলসের বলেছিলেন, ‘ওর ছোট্ট গোঁফ দিয়ে আমাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল!’ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এমনই সব চুমু-কাণ্ড নিয়ে লেখা এই প্রতিবেদন।
বিশ্বকাপ জিতে চুমু, তারপরই তোলপাড়!
২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। মাঠে তখন আনন্দের বন্যা, খেলোয়াড়দের চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই এমন এক চুমুকাণ্ড ঘটল, যা ফুটবলের শিরোনাম থেকে সোজা চলে গেল বিতর্কের কেন্দ্রে!
আরও পড়ুন
স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস বিশ্বকাপ জয়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্প্যানিশ ফুটবলার জেনি হারমোসোর ঠোঁটে চুমু দেন। সমস্যা হলো, হারমোসো বলেছিলেন, ওই চুমুতে তার সম্মতি ছিল না! রুবিয়ালেস অবশ্য প্রথমে দাবি করেছিলেন, চুমুটি ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে।
ব্যস, বিশ্বকাপের আনন্দ পরিণত হলো আন্তর্জাতিক বিতর্কে। ফিফা রুবিয়ালেসকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে, আর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের আদালত রুবিয়ালেসকে সম্মতিবিহীন চুমুর ঘটনায় যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে ১০ হাজার ৮০০ ইউরো জরিমানা এবং হারমোসোকে ৩ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে জুনে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখে।
আরও পড়ুন
ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে রুবিয়ালেসের ওপর ফিফার দেওয়া তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে। ফলে ফুটবলে ফেরার পথে তার ওপর ফিফার ওই নিষেধাজ্ঞা আর বাধা নয়। তবে ফুটবল প্রশাসনে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেননা, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এই ঘটনা তার ক্যারিয়ারে বড় দাগ হয়ে রয়েছে।
চুমুতে ফাউল, বিপাকে পড়েছিলেন বক্সার
আরও পড়ুন
২০১৯ সাল। একটি জয়ের পর হেভিওয়েট বক্সার কুব্রাত পুলেভের কাছে যান এক নারী সাংবাদিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভেগাস স্পোর্টস ডেইলির সাংবাদিক জেনি সুসি। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি পুলেভকে জিজ্ঞেস করেন, পরবর্তী লড়াইয়ে তিনি টাইসন ফিউরির মুখোমুখি হতে চান কি না। উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলার পরই সুসির দিকে ঝুঁকে তাকে চুমু দেন পুলেভ।
এর জবাবে সুসে বলেন, ‘আচ্ছা।’ এ সময় তাকে কিছুটা স্নায়ুচাপে হেসে ফেলতেও দেখা যায়। তবে সুসের দাবি, সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর পুলেভ তার দুই নিতম্ব দুই হাত দিয়ে চেপে ধরেন। বুলগেরিয়ান বক্সারের দাবি ছিল, সুসি তার বন্ধু ছিলেন। তবে পুলেভের এই দাবি অস্বীকার করেছিলেন সুসি।
সেই ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বক্সিংয়ে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পুলেভ। গুনেছিলেন আর্থিক জরিমানা। এক কথায়- এক চুমুতেই রাতারাতি নায়ক থেকে খলনায়ক বনে যান বুলগেরিয়ান এই বক্সার।
ম্যারাডোনাকে চুমু খেয়ে ভাগ্য ফিরেছিল তেভেজের
শিরোপা জয়ের আনন্দ, আর সেই আনন্দের আগে সৌভাগ্যের আশায় প্রিয় কিংবদন্তিকে চুমু! আর্জেন্টিনার প্রিমেরা ডিভিশনের শিরোপা নিশ্চিত করার পথে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে চুমু দিয়েছিলেন কার্লোস তেভেজ। এরপর তার গোলেই নাটকীয়ভাবে শিরোপা জেতে বোকা জুনিয়র্স। ঘটনাটি অর্ধযুগ আগের।
২০২০ সালে আর্জেন্টিনার শীর্ষ ফুটবল লিগের শেষ দিনের ম্যাচে বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ম্যারাডোনার দল হিমনাসিয়া লা প্লাতাকে ১-০ গোলে হারায় বোকা জুনিয়র্স। ম্যাচের ৭২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন তেভেজ। এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিভার প্লেটকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে শিরোপা নিশ্চিত করে বোকা। তেভেজ বিশ্বাস করেন, ম্যারাডোনাকে চুমু খাওয়ায় ভাগ্য ফিরেছিল তার।
চুমুতে ম্যারাডোনার কপাল পুড়েছিল
১৯৯৬ সালের ঘটনা। বুয়েনস আইরেসে বোকা জুনিয়র্সের সতীর্থ ক্লদিও কানিজিয়ার গোল উদ্যাপন করতে গিয়ে তার ঠোঁটে চুমু দেন ডিয়েগো মারাডোনা।
ভেলেজ সার্সফিল্ডের গোলরক্ষক হোসে লুইস চিলাভের্তের মতে, এমন চুমু দর্শকদের কাছে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘দুজন পুরুষের একে অপরের ঠোঁটে চুমু দেওয়ার বিষয়টি আমি সমর্থন করি না। ফুটবল আনন্দের উপলক্ষ, তবে বিষয়গুলোকে গুলিয়ে না ফেলি।’
সেদিন মারাডোনার সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তার দল পাঁচ গোল হজম করে। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে মাঠ থেকেও বহিষ্কৃত হন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
‘ওর ছোট্ট গোঁফ দিয়ে আমাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল’
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গোলের পর সতীর্থ গ্যারি নেভিলের ঠোঁটে চুমু খেয়েছিলেন পল স্কোলস! ২০১০ সালের সেই দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। দীর্ঘ সময় পর সেই ‘অদ্ভুত’ চুমু নিয়ে মুখ খুলেছিলেন স্কোলস। জানিয়েছেন, নেভিল যে তাকে চুমু দেবেন, তা তিনি একেবারেই ভাবেননি!
২০১০ সালের এপ্রিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোল করেন স্কোলস। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলের সেই জয়ের পর মাঠেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান স্কোলস ও নেভিল।
সেই মুহূর্তের কথা মনে করে স্কোলস বলেছিল, ‘ওর ছোট্ট গোঁফ দিয়ে আমাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল! সত্যি বলতে, আমি এটা একেবারেই প্রত্যাশা করিনি। ঠোঁটে চুমু দেওয়াটা অদ্ভুত! মাঝেমধ্যে গালে চুমু দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঠোঁটে চুমু দেওয়াটা অদ্ভুত।’
অনিক/
