নিজস্ব প্রতিবেদক · ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৫৯ অপরাহ্ন
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কুপিয়ে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে লাঠি দিয়েও পেটানো হয়।
রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কামারগ্রাম এলাকায় একটি বাঁশঝাড়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত হারিছ আলী বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হারিছ আলী উপজেলার ফুলতৈছগ্রামের বাসিন্দা। কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারিছ আলী বলেন, রোববার রাতে তোয়াকুল বাজারে একটি সালিস ছিল। সালিস শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজার থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। পথে কামারগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তার সামনে থামে। অটোরিকশা থেকে পাঁচজন দা ও লাঠি নিয়ে নেমে তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুন্ডারে বহুত দিনে পাইছি।’
হারিছ আলীর বলেন, এরপরই তাদের একজন দা দিয়ে তাকে কোপ দেন। কোপ থেকে বাঁচতে ডান হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় তার পেছনে থাকা আরেক পথচারী ভয়ে পালিয়ে যান।
হারিছ আলী জানান, তাঁর চিৎকার শুনে এবং হামলাকারীদের কথাবার্তা টের পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশের একটি খাদ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হারিছ আলীর দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে একই গ্রামের এমরান, মোহাম্মদ, বুরহান, নজরুল ও অটোরিকশাচালক ইমাম ছিলেন। এমরান, মোহাম্মদ ও বুরহান পরস্পর ভাই। এমরানই তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রথম কোপেই তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানান হারিছ আলী। তিনি বলেন, পরে কাটা হাতটি খুঁজেছিলেন। কিন্তু রক্ত ঝরতে থাকায় হাতের দিকে তাকানোর সুযোগ পাননি। উদ্ধারকারীদের একজন নিজের পাঞ্জাবি দিয়ে তাঁর হাতের ক্ষতস্থান বেঁধে দেন। স্থানীয় লোকজনকে কাটা হাতটি খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। তবে হাতটি আর পাওয়া যায়নি।
হারিছ আলী বলেন, অভিযুক্ত নজরুলের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গত চৈত্র মাসে তার একটি গরু চুরি হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গরুটি উদ্ধার করেন তিনি। যে স্থান থেকে গরুটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখান থেকে জানতে পারেন, নজরুল গরুটি চুরি করে অন্যত্র রেখেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও নজরুল বিরোধ জিইয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন হারিছ আলী।
হাসপাতালে হারিছ আলীকে দেখতে আসেন তার ভাগনে আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, তার মামা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ডান হাত হারানোয় মামা কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
